নির্বাচনে ভরাডুবির পর যা বললেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করিম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ উভয় আসনেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের নিকট পরাজিত হওয়ার পর এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ উভয় আসনেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের নিকট পরাজিত হওয়ার পর এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম নির্বাচনী ফলাফলের স্বচ্ছতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, ভোটগ্রহণের পূর্বে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রতি যে অভূতপূর্ব গণজোয়ার, স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ এবং উদ্দীপনা তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলের পরিসংখ্যানে তার কোনো প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন না। এই অমিলকে রহস্যজনক অভিহিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, মাঠের জনসমর্থন যদি ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত না হয়, তবে গণতন্ত্রের প্রকৃত সার্থকতা কোথায়? পরাজয়কে ব্যক্তিগত হার হিসেবে গণ্য না করে তিনি একে দেশ ও মানবতার কল্যাণে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের একটি অংশ হিসেবে দেখেন এবং নিজেকে নৈতিকভাবে বিজয়ী বলে দাবি করেন। তবে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের পর বরিশালের শায়েস্তাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নামধারী কিছু দুষ্কৃতিকারী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী মব জাস্টিস বা গণপিটুনির সংস্কৃতি চালু করেছে এবং তাঁর দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর অমানবিক শারীরিক হামলা চালাচ্ছে। ফয়জুল করিম বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘদিনের জুলুম-অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু এখন যদি আবার নতুন করে দখলদারিত্ব ও মারধর শুরু হয়, তবে তা জনগণের প্রত্যাশার চরম পরিপন্থী হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যদি আদর্শিক ভিন্নতার কারণে কাউকে সমর্থন করার অধিকারই না থাকে, তবে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বুলি আউড়ানো নিরর্থক। নির্বাচনের পূর্ববর্তী অনুকূল পরিবেশের সাথে এই বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ফলাফলের পেছনে পর্দার অন্তরালে কী ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পুরো বিষয়টি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
Shamiur Rahman
