ফিরছেন না গণঅধিকারে, বিএনপিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাশেদ খানের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে গণঅধিকার পরিষদের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদকের পদ ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানের মাধ্যমে রাশেদ খান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে গণঅধিকার পরিষদের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদকের পদ ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানের মাধ্যমে রাশেদ খান তার ক্যারিয়ারের এক নতুন ও কৌতূহল উদ্দীপক অধ্যায় সূচনা করেছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাঙ্ক্ষিত জয় না পেলেও তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, গণঅধিকার পরিষদে পুনরায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং ভবিষ্যতে তার সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আনুগত্য কেবল বিএনপির সাথেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকবে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে যে, ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব জয়ী হয়েছেন এবং রাশেদ খান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও তিনি এই ফলাফলকে রাজনৈতিক শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে বিএনপিতেই থিতু হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৭ ডিসেম্বর নাটকীয়ভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ের একাংশ নেতার অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখে পড়লেও রাশেদ খান মনে করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং যারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তারা ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের বর্তমান নেতৃত্বের সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রশ্নে তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে বিএনপির ছায়াতলে থেকে ঝিনাইদহসহ দেশব্যাপী তার রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছেন। মূলত জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতেই তিনি এই কৌশলগত দলবদল করেছেন এবং নির্বাচনের পরেও তার এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা স্পষ্ট করে দেয় যে আগামী দিনে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবেই রাজপথে সক্রিয় থাকবেন।
Shamiur Rahman
