‘এ ভূমিধ্স জয় বিএনপির ত্যাগের ফসল’

Published: 14 February 2026 13:02

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদগণ দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদগণ দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আধুনিক নেতৃত্বের এক অনন্য ফসল হিসেবে অভিহিত করেছেন। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসন লাভের মাধ্যমে যে ভূমিধস জয় পেয়েছে, তার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম উল্লেখ করেছেন যে, বিগত দুই দশকে বিএনপির ওপর হওয়া ‘বেইনসাফি’ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এক ধরনের প্রতিশোধ নিয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণ, খালেদা জিয়ার প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতি সহমর্মিতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আধুনিক ও পশ্চিমা ধাঁচের নির্বাচনী প্রচার কৌশল তরুণ ও নারী ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ স্লোগান, জনসভায় প্রথাগত আক্রমণাত্মক রাজনীতির বদলে গঠনমূলক ও ভিশনারি উপস্থাপনা এবং ৩১ দফার বৈপ্লবিক ইশতেহার জনগণের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করেছে যে, বিএনপিই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ফেসবুকভিত্তিক প্রচারণার ‘হাইপ’ জনসম্পৃক্ততায় রূপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং তাদের ঐতিহাসিক বিতর্কিত ভূমিকার কারণে জনম্যান্ডেট বিএনপির দিকেই ঝুঁকেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান। তবে এই বিশাল জয়ের পর বিএনপির সামনে রাষ্ট্র পরিচালনায় বহুমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ও ৩১ দফার সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। এছাড়া স্থবির অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কয়েক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে নতুন সম্পর্ক তৈরি করা এবং শিক্ষা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। সর্বোপরি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করা এবং জোটের সঙ্গীদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করাই হবে আগামী দিনে বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রধান পরীক্ষা।

Shamiur Rahman

Related