মানবাধিকার রক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিলে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন দর্শন ও পররাষ্ট্রনীতির এক সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরেছেন
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিলে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন দর্শন ও পররাষ্ট্রনীতির এক সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর উদ্ধৃতি দিয়ে বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর সরকার কেবল ব্যালট বাক্সের গণতন্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং একটি বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের নিরন্তর অঙ্গীকারে বিশ্বাসী; যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের মূল অগ্রাধিকার।
ইফতারে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতা নয় বরং সবার সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব, আর তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে অত্যন্ত বাস্তবমুখী এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এক উদার ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে যা যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং গ্রামীণ পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদে সামাজিক নিরাপত্তা পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এক অনন্য সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
Shamiur Rahman

Please share your comment: