সংকটের কঠিন মুহূর্তে আমাকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনী: রাষ্ট্রপতি
কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, সেই দেড় বছরে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি এবং রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাঁকে অসাংবিধানিক
কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, সেই দেড় বছরে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি এবং রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাঁকে অসাংবিধানিক উপায়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পর্দার আড়ালে অসংখ্য চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্রের ছক আঁকা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান যে, ওই সময়ে তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে বিদেশে তাঁর রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনসহ দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল; এমনকি কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে এক রাতেই সারা বিশ্বের দূতাবাসগুলো থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া এবং সরকারি ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির বাণী ও ছবি বন্ধ করে দিয়ে তাঁর ‘এক্সপোজার’ পুরোপুরি রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। সাহাবুদ্দিন বলেন, তাঁর জীবনের সেই কঠিনতম দুর্যোগের দিনে তিনি বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে শতভাগ দৃঢ় নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন লাভ করেছিলেন, যেখানে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে তারা কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চান না এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিকতা ও সময়োপযোগী অবস্থানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণেই তাঁকে সরিয়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে বসানোর মতো সরকারি চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, বঙ্গভবনের সামনে যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বা ‘মব’ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং সরকারের ভেতর থেকে অপসারণের তোড়জোড় চলছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধান তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে মনোবল জুগিয়েছেন এবং তাঁর নিরাপত্তার সুরক্ষা দিয়েছেন বলেই কোনো ষড়যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।
Shamiur Rahman
