ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন যে তিনজন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এমন তিন হেভিওয়েট নেতা, যাঁদের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এবং যাঁদের মাথার ওপর ঝুলছিল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এমন তিন হেভিওয়েট নেতা, যাঁদের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এবং যাঁদের মাথার ওপর ঝুলছিল মৃত্যুদণ্ডের খড়্গ। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব কেবল দেশের রাজনীতিকেই পাল্টে দেয়নি, বরং লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং এটিএম আজহারুল ইসলামের মতো নেতাদের ভাগ্যলিপিও নতুন করে লিখেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ ১৮ বছর বন্দি জীবন কাটিয়েছেন, যেখানে তাঁর মুক্তি ছিল প্রায় অসম্ভব এক কল্পনা; কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় কারামুক্ত হয়ে তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে জনগণের রায়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। একইভাবে ১৭ বছর কারাবাস ও ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ফেরা বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতা আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রায় ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেছেন। অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, যাঁর ফাঁসি কার্যকর হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র, তিনি দীর্ঘ ১২ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটিয়ে রংপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং এমনকি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকেও পরাজিত করেছেন। এই তিন নেতার কারাগার থেকে সরাসরি সংসদে যাওয়ার এই যাত্রা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং বিশ্লেষকদের মতে এটি বিগত সরকারের বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক আবেগের এক অভূতপূর্ব প্রতিফলন।
Shamiur Rahman
