রয়টার্সের প্রতিবেদন
নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে জেন-জি ভোট
বিরোধী দলগুলোর কোণঠাসা অবস্থার পর এবারের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০০৯ সালের পর প্রথম কোনো অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক লড়াই
বিরোধী দলগুলোর কোণঠাসা অবস্থার পর এবারের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০০৯ সালের পর প্রথম কোনো অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক লড়াই। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'জেনারেশন জেড' বা জেন-জি ভোটাররা, যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং যাদের পছন্দই সম্ভবত নির্ধারণ করে দেবে দেশের আগামীর নেতৃত্ব। শেখ হাসিনার পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পোশাক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলো যখন সংকটে, তখন একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট রায় দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনমত জরিপগুলোতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠনের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে, বিশেষ করে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণদের নতুন দল এনসিপি জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ায় লড়াইটি ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের সমীকরণকেও বদলে দিতে পারে; কারণ বিশ্লেষকদের মতে ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক তুলনামূলক সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে এবং বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের তালিকায় থাকা দুর্নীতি ও মূল্যস্ফীতির বিপরীতে জামায়াতের 'পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি' এবং বিএনপির 'জনপ্রিয়তা'—এই দুইয়ের মাঝে জেন-জি ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারেক রহমান নাকি শফিকুর রহমান দেশের পরবর্তী কাণ্ডারি হচ্ছেন। সর্বোপরি, সর্বত্র আওয়ামী লীগের 'নৌকা'র একচ্ছত্র আধিপত্যের বদলে এখন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার সাদা-কালো পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
Shamiur Rahman
