আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন

Published: 03 June 2022 00:06

দুদকের নোটিশে বলা হয়, ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি (মোশাররফ) জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।’

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সেই সঙ্গে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুদক।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এ আবেদন করে দুদক। এ বিষয়ে শুনানি আগামী রোববার (৫ জুন)।

এর আগে গত ১ জুন এক চিঠিতে মোশাররফ হোসেনকে ২১ কর্ম দিবসের মধ্যে স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পদের হিসাব দিতে বলেছে দুদক। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান তদন্ত-২ এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশটি বুধবার মোশাররফ হোসেনকে পাঠানো হয়।

দুদকের নোটিশে বলা হয়, ‘প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি (মোশাররফ) জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।’

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউ। এরই মধ্যে সেই প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে জমা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএফইইউ মোশাররফ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩০টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পায়। এর মধ্যে ১৮টি হিসাবে ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকার জমার হিসাব পাওয়া যায়।

মোশাররফ হোসেন ২০১৮ সালের মে মাসে আইডিআরএর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বীমার শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর একই বিষয় আবার দেখা দেয়।

অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজেই বীমার শেয়ারে বিনিয়োগ করে পরে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টরা ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন।

যেভাবে উত্থান হয়েছিল, বীমার শেয়ারে পতনও হয়েছে সেভাবে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরের বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে বীমার কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদর ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে, কোনোটির দর বেড়েছে ৮ গুণ, কোনোটির ৬ গুণ। দাম আরও বাড়বে ভেবে উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে এখন মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের।

বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর এখন এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। এই সময়ে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অর্ধেক হয়ে গেছে, কোনোটির দর তার চেয়ে বেশি কমে গেছে।

Shamiur Rahman

Related