ভারতের কাছে দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি চায় বাংলাদেশ
অবশেষে তিস্তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এমনটা আশা করা যায়। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ
অবশেষে তিস্তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এমনটা আশা করা যায়। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল বুধবার নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ এই অনুরোধ জানায়। এছাড়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরো জোরদারের বিষয়েও বার্তা দিয়েছে ভারত।
গতকালের বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় লিখেছেন, বৈঠকের আলোচনা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরো শক্তিশালী করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে তারা সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারেও সম্মত হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান মাসে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, বৈঠকে মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতুয়ে থেকে তাদের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের ইয়াঙ্গুনে সরিয়ে নিচ্ছে। সিতুয়েতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে ছয়জন সদস্য আছেন। প্রয়োজনে তাঁদেরও সিতুয়ে থেকে ইয়াঙ্গুনে সরিয়ে নিতে ভারত সহযোগিতা করতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঢাকায় যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে ওই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে যৌথভাবে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সভাপতিত্ব করবেন।
ওই সভায় দুই দেশের সম্পর্কের সব দিক নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে জার্মানির মিউনিখে আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন।
জানা গেছে, ওই সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়ে গতকাল নয়াদিল্লিতে আলোচনা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকালের বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রীরা আন্ত সীমান্ত যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, পানি সম্পদ ও মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছেন।
তারা ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ সহ দুই দেশের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর আলোকে আগামী দিনগুলোতে সম্পৃক্ততার খাতগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।
বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা বিমসটেক, আইওআরএ, বিবিআইএন কাঠামোর আওতায় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়েও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
Shamiur Rahman
