নিষেধাজ্ঞা দিলে তারাও সংকটে পড়বে: প্রধানমন্ত্রী
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার পর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পোশাক খাতে কোনো দেশ নিষেধাজ্ঞা দিলে তারাও সংকটে পড়বে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার পর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবন থেকে ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এবারের ভোটে কোনো গন্ডগোল চাই না, যে যাকে খুশি ভোট দেবেন। ভোট অনেক জরুরি। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। ভোটের মাধ্যমে বিএনপির দুর্বৃত্তায়নের জবাব দিতে হবে। এখানে কেউ কাউকে বাধা দিতে পারেন না। কোনো রকম সংঘাত আমি চাই না।
আমি চাই এই নির্বাচন সত্যিকারভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সুগম হবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একান্তভাবে জরুরি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে অনেক রকম খেলা অনেকে খেলতে চায়। যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না, জয়বাংলা স্লোগান যারা নিষিদ্ধ করে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যারা নিষিদ্ধ করে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যারা ধ্বংস করে তারা দেশটাকেই ধ্বংস করবে। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। সেটি যেন করতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে আমি যখন গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি, তখন ষড়যন্ত্রের শিকার হই। ক্ষমতায় আসতে পারিনি। গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই তারা দুর্নীতি লুটপাট, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের অকাট্য নির্যাতন শুরু করে। তাদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে যায়, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরেক দিকে তারেক, যে হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতির আখড়া গড়ে তোলে। ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে। যার ফলে দেশে চরম অরাজকতার সৃষ্টি হয়। তারা জানত জনগণ তাদের ভোট দেবে না, প্রত্যাখ্যান করবে। তখন তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার লিস্ট তৈরি করে। সেভাবে নির্বাচন করার প্রচেষ্টা নেয়। সেখানে তারা ব্যর্থ হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা দেশে একটি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আর বিএনপি চায় কারচুপির নির্বাচন। জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল খালেদা জিয়া। থাকতে পারেনি। ভোট চুরি করলে জনগণ মেনে নেয় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার পতন ঘটে। ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়। তারপর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ওদের শিক্ষা হয়নি। তাই আবারও ২০০১ সালে ভোট কারচুপি, ভোট চুরি, জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলা শুরু করে। তাদের দুঃশাসনের কারণে দেশে ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা জারি) হয়।
আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় আসে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে একটানা ক্ষমতায় আছি বলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করতে পেরেছি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এবং শিক্ষার উন্নয়ন করতে পেরেছি। আমরা বাংলাদেশকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে পেরেছি। আমরা বেকারত্বের হারও কমিয়ে তিন শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। দেশে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, সারা দেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে একটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে আমরা পেরেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো বিএনপি-জামায়াতের চরিত্রটা হচ্ছে দুর্নীতি করা আর মানুষ খুন করা। তারা অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করে। এর থেকে জঘন্য কাজ আর কিছু হতে পারে না।
২০১৩-১৪ সালের মতো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত আবার ‘ভয়াল রূপ’ নিয়ে হাজির হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস, ট্রেনে আগুন দেওয়ায় মা-শিশু পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। এই দৃশ্য সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। শুধু তাই না, রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলেছে, বগি ফেলে দিয়ে এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে মানুষ মারার ফাঁদ পাতে তারা। যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়। চিফ জাস্টিসের বাড়িতে হামলা করেছে, জাজেস কোয়ার্টারে হামলা করেছে। সাংবাদিকদের পিটিয়েছে। পুলিশকে কীভাবে পিটিয়ে মেরেছে আপনারা দেখেছেন। এই ধরনের জঘন্য কর্মকা- তারা করেছে।
দেশের মানুষকে এই দুর্বৃত্তপরায়ণতার জবাব দেয়ার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে, আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে এর জবাব দেবেন এবং উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখবেন, সেটাই আমরা চাই। আজকে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রার্থী আছে। সেই সঙ্গে আমরা এবার আমাদের নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমাদেরই স্লোগান ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দিবো।’ কাজেই আপনাদের পছন্দ মতো ভোট দেবেন। কিন্তু কোনোরকম গন্ডগোল আমি চাই না। কোনোরকম কোনও দুর্ঘটনা বা কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব যেন না থাকে। সকলকেই সহনশীলতা দেখাতে হবে। নির্বাচনে যার যার ভোট শান্তিমতো দেবে এবং সেই পরিবেশটা আমাদের রক্ষা করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি পর্যায়ক্রমে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলা, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলা ও মহানগর, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, কুমিল্লা উত্তর-দক্ষিণ জেলা ও মহানগর এবং চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা, সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, থানা, পৌর এবং ইউনিয়ন,ওয়ার্ড নেতারা এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নির্বাচনী এলাকার দল মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
Shamiur Rahman
