পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু, মানুষের মাঝে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
টোল দিয়ে পদ্মা সেতু প্রথম পাড়ি দিলো মোটরসাইকেল
১০০ টাকা টোল দিয়ে সকাল ৬টায় মোটর সাইকেলটি যাত্রা শুরু করে
যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক পথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে।
আজ রবিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে সেতুর টোল প্লাজা চালু করে সেতু দিয়ে প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম যে বাহনটি পদ্মা সেতুতে টোল দিয়ে প্রবেশ করে সেটি একটি মোটরসাইকেল।
১০০ টাকা টোল দিয়ে সকাল ৬টায় মোটর সাইকেলটি যাত্রা শুরু করে।
সকাল ছয়টা থেকে টোল গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অপেক্ষমাণ গাড়ির চাপ বাড়তে থাকায় ১৫ মিনিট আগেই সাধারণ যানবাহনের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে একসঙ্গে পাঁচটি গাড়ির মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়।
কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার জিনও পার্ক এ তথ্য জানান। এই প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের টোল গ্রহণের দায়িত্বে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে টোলের সব তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে। ফলে কোন কোন গাড়ি পদ্মা সেতু পার হচ্ছে সেই তথ্য থাকছে।
এ যেন আনন্দের সীমাহীন ছুটে চলা, হাজারো যানবাহন পদ্মার বুকে ছিড়ে পার হচ্ছে এপার থেকে ও পার। এতে উৎসব আর আনন্দের জোয়ার বইছে সেতুর টোল প্লাজায়।
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখি সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
পরে গভীর রাত থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় ভিড় করতে থাকে হাজারো যানবাহন ও দর্শনার্থী। এতে করে প্রায় ৭ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সকাল ৬টা বাজতেই টোল আদায়ের পর যানবাহন পারাপারে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় বহুল প্রতিক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকায় টোল নিতে সময় লাগছে। ফলে সেতু পারাপারে অপেক্ষাকৃত গাড়ির চাপে যানজট বেড়েই চলছে।
স্বপ্নের এই সেতু শুধু রাজধানী ঢাকা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগই স্থাপনই করেনি এটি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ ও বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার, পদ্মা সেতুর ওপর যেকোনও ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা/হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ। তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদি), হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়ি যোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না। গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া এবং ৫.৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না। সেতুর ওপরে কোনও ধরনের ময়লা ফেলাও যাবে না।
Shamiur Rahman
