পদ্মায় ভাঙ্গনের দায় কি শুধু প্রকৃতির?
অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এই ভাঙ্গনের জন্য দায়ী
রাজবাড়ী জেলায় পদ্মা নদী হেমন্তকালে আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। রাজবাড়ীতে গত কয়েকদিনে পদ্মার পেটে গিয়েছে ছয়শ বিঘার বেশি ফসলি জমি। ভাঙন দেখা দিয়েছে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধেও। হুমকিতে রয়েছে বাড়ি-ঘরসহ নানা স্থাপনা।
গুরুত্ব অনুযায়ী ভাঙন কবলিত এলাকায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো। অন্য দিকে এলাকাবাসী জানায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এই ভাঙ্গনের জন্য দায়ী।
পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়চর বেনীনগর, কালিতলা, চর সিলিমপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতে প্রচুর স্রোত। বড় চরবেনিনগর এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি এলাকায় চর জেগেছে। ফলে মূল স্রোত পদ্মার ডান দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর নদীতে প্রচুর স্রোত থাকায় নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
বরচর বেনিনগর, কালিতলা, চরসিলিমপুর গ্রামের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এই ভাঙন। এরই মধ্যে এসব এলাকার ছয়শ বিঘার বেশি কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া লালগোলা এলাকায় তীররক্ষা প্রকল্পের ৮০ মিটার ব্লক ধসে গিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এভাবে ভাঙন চললেও এখনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। দ্রুত ভাঙন রোধ করা সম্ভব না হলে অনেক ঘর-বাড়ি ও নানা স্থাপনা পদ্মায় চলে যাবে।
অনেকে এই ভাঙনের জন্য প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছে পদ্মা থেকে বালি উত্তোলন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানে অসময়ে বন্যায় পদ্মায় পানি প্রবাহ বেড়েছে। সেই সঙ্গে পানি কমায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।
নদীর পারে ক্ষেত থেকে সবজী তুলতে আসা একজন বলেন, আমাদের ছয় বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। জমিতে পালং শাক, উস্তে, বেগুন ও টমেটো চাষ করেছিলাম। অল্প একটু জমি আছে সেটুকু রাতে মনে হয় থাকবে না। এভাবে ভাঙতে থাকলে আমাদের বাড়ি-ঘরও থাকবে না। আমাদের বাড়ি ছাড়া মাঠের জমি সবই শেষ। এখন কী করে খাব জানি না। একদিকে পদ্মায় বালি তুলছে, অন্যদিকে নদী ভাঙছে। বালি তোলা বন্ধ হলেও ভাঙন কিছুটা কমবে। আর ভাঙন দেখা দিলে তখন দুই বস্তা ব্যাগ ফেলে চলে যায়। তাতে কিছুই হয় না।
ভাঙন ঠেকাতে হলে বড় উদ্যোগ নিতে হবে। এই ভাঙ্গনের জন্য শুধু নদীর উপর দোষ দিলে হবে না। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনই মূলত দায়ী।
Shamiur Rahman
