অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম
ভূয়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৯৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) এবং আবু হাসান (৪৮)।
র্যাব অধিনায়ক জানান, অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তির নথিপত্র অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভিসা সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র দেখাত। এরপর ব্যক্তি প্রতি ২১ লাখ টাকা করে আদায় করা হতো।
ভুক্তভোগী মো. শরীফ মোল্লা (২৮) তার ভাতিজা, চাচাতো ভাই ও ভাগিনাকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর জন্য ২০২৫ সালের ১২ মে ও পরবর্তী সময়ে আসামি তারেকুল ইসলামের পল্লবী থানাধীন বাসা ও অফিসে গিয়ে ‘এশিয়া ব্যাংক টিআর গ্রুপ’ নামের হিসাব নম্বরে সর্বমোট ৯৪ লাখ টাকা জমা দেন। পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা ও টিকিট ইস্যু করলেও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন সবই জাল। নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় গেলে তাদের আটকে দেওয়া হয় এবং কাগজপত্র ভুয়া বলে জানানো হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর র্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা তারেকুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের দাবি, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৪।
Shamiur Rahman
