সারাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় রাজবাড়ী

লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা রাজবাড়ীতে

Published: 31 October 2021 22:10

মুড়িকাঁটা পেঁয়াজ রোপনের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন তোলা যায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলনের আশায় চাষীরা। তবে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান ও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি চাষীদের

সারা দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা তৃতীয় অবস্থানে। রাজবাড়ীর পেঁয়াজের সুনাম রয়েছে বহু বছর আগে থেকেই।

সারা দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ রাজবাড়ী জেলাতে হয়। এই জেলায় প্রতি মৌসুমে মুড়িকাঁটা ও হালি- এই দুই জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়। এরমধ্যে আগাম জাত হলো মুড়িকাটা। এবারো জেলা সদর, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি, পাংশা উপজেলায় এ জাতের পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

মুড়িকাঁটা পেঁয়াজ রোপনের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন তোলা যায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভালো ফলনের আশায় চাষীরা। তবে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান ও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি চাষীদের। এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, পেঁয়াজ চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সরেজমিন সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ রোপন করে ফেলেছে চাষীরা।
এখন পেঁয়াজ ক্ষেত পরিচর্যার কাজে চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ নিরানী দিচ্ছে, কেউ ওষুধ ছিটাচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রোপন করা মুড়িকাটা পেঁয়াজ তিন মাসের মধ্যে ঘরে উঠবে। আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশা চাষীদের।

রাজবাড়ী সদরের উড়াকান্দা এলাকার কৃষক রমজান আলী জানান, 'জমি চাষ, মুড়িকাটা পেঁয়াজ, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচসহ ঘরে উঠানো পযর্ন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি পেয়াজ উৎপাদন হবে ৫০- ৬০ মণ। গত বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছিলাম'।

মোঃ ওয়াজেদ শেখ বলেন, পেঁয়াজের মণ কম পক্ষে দুই হাজারের বেশি টাকায় থাকতে হবে তাহলে কিছুটা লাভ থাকবে কৃষকের। আর কৃষক যখন পেঁয়াজ ঘরে তুলবে তখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। তাহলে কৃষক বাঁচবে।

আরেক কৃষক আবু বক্কর জানায়, গত বছর পেঁয়াজে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। এবারও ভালো ফলন হবে আশা করছেন। তবে শঙ্কায় রয়েছেন যে পেঁয়াজ ঘরে তোলার সময় ভারতের পেঁয়াজ আসলে ন‍্যায‍্য দাম পাওয়া নিয়ে। সেজন‍্য সরকারের কাছে দাবী ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করবার জন‍্য।

কৃষি বিভাগের তথ‍্য মতে, এই জেলায় দুই ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। মুড়িকাটা ও হালি পেয়াজ। গতবছর জেলায় ৩১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হালি পেঁয়াজ ২৬ হাজার ১৬৫ হেক্টর এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ মাত্রা ছিলো ৪ লক্ষ ২ হাজার মেট্রিকটণ। এবছরেও লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিভাগের।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস, এম, শহীদ নূর আকবর বলেন, সারাদেশের মধ্যে পেয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সাথে কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণও দেয়া হচ্ছে।

Shamiur Rahman

Related