‘রাতের ভোটের কোন ডকুমেন্ট আছে?’
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে দাবি করা রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘ভোট যে রাতে হয়েছে কোনো মামলা করেছেন? কোনো ডকুমেন্ট আছে? আদালতে বক্তব্য দিলে তার স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে হয়। বাইরে বক্তব্য দেওয়া আর আদালতে বলা এক বিষয় নয়।’
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানিতে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।
পরে আদালত এই বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। আর আবেদনকারীর কোনো বক্তব্য থাকলে তা লিখিত আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই। আর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ শুনানি করেন।
শুনানিতে ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, আগেও দুটি নির্বাচন দেখেছি। একবার (২০১৪ সালে) ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর ২০১৮ সালে রাতে ভোট হয়েছে। ওই নির্বাচনে আমিও প্রার্থী ছিলাম। এসময় আদালত বলেন, ভোট যে রাতে হয়েছে বলছেন, কোনো মামলা করেছেন? বক্তব্য দিয়ে বললেই হবে? ইউনুছ আলী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য মিডিয়ায় ঢালাওভাবে বলেছে।’
আদালত বলেন, ‘মিডিয়ার কথা এভাবে আমলে নিতে পারব না। এটি বাইরে নেতারা বলতে পারেন। সংসদেও বক্তব্য দেওয়া যায়। কিন্তু রাতে নির্বাচন হয়েছে যে এ ধরনের কোনো ডকুমেন্ট আছে কি না, দেখান।
ইউনুছ আলী বলেন, রাতের ভোটের বিষয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সাক্ষি আছে। আদালত বলেন, তাহলে মামলা করেননি কেন? ইউনুছ আলী বলেন, মামলা করে লাভ কি? মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। আদালত বলেন, আপনি একজন কোর্ট অফিসার, দায়িত্বশীল লোক। কোর্টে শুনানির সময় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।
শুনানিতে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও একাধিক রায় তুলে ধরে রিটটি অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তা খারিজের আরজি জানান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আর অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান যেভাবে বলেছে নির্বাচন কমিশন সেভাবেই তফসিল ঘোষণা করেছে।’ এ সময় রিটকারিকে জরিমানা করার দাবি জানান ইসির আইনজীবী।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন। আর এই বিষয়ে রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তফসিল স্থগিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের আদেশ প্রার্থনা করা হয় আবেদনে।
রিটে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, এখনো একাদশ সংসদ বহাল আছে। আর সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অসাংবিধানিক। কারণ ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হলে দুটি সংসদ হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠান এই আইনজীবী।
Shamiur Rahman
