শীতে কাঁপছে রাজবাড়ী

Published: 06 January 2023 07:01

ছয়দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকায় বেশি দুরাবস্থায় পড়েছে হতদরিদ্র মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের অবস্থা বেশি খারাপ। শীতজনিত নানা রোগব্যাধি বেড়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে এ সংক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে

গত কয়েকদিন ধরে শৈত্য প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে পড়েছে। এছাড়া অনেক জেলায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন।

ছিন্নমূল মানুষদের ফুটপাতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। কনকনে শীতে গরম কাপড়ের কদর বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণিবিতানে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লেপতোশকের দোকানে কর্মচারীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। পুরাতন কাপড়ের দোকানে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় বেড়েছে।

ছয়দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকায় বেশি দুরাবস্থায় পড়েছে হতদরিদ্র মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের অবস্থা বেশি খারাপ। শীতজনিত নানা রোগব্যাধি বেড়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে এ সংক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। এভাবে সারা দেশে কয়েক হাজার মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

শীতে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন জেলায় ঠিকমতো সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

পরিস্থিতি এমন যে, ভোর ও সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো পড়ছে কুয়াশা। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। দিনের বেলা গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েও বেশি দূরের জিনিস দেখা যাচ্ছে না। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় ফেরী এবং লঞ্চ পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোন কোন ফেরী মাঝ নদীতে আটকে পড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিবছরই শীতার্ত মানুষের পাশে সরকার, সরকারি দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সহ ব্যক্তি উদ্যোগে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে। এ বছর এ পর্যন্ত এমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে নি। কোন কোন সরকারী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ কেউ শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন এমনটা দেখা যাচ্ছে না। এগিয়ে আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Shamiur Rahman

Related