হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম) বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম গেরিলা কিংবদন্তি

Published: 07 December 2023 16:12

মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার অপরাধে রাজাকাররা তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর চালিয়েছিল নির্মম নির্যাতন

হেমায়েত উদ্দিন ১৯৪১ সালের ৩ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন হাবিলদার।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরি করতেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি গাজীপুর সেনানীবাস থেকে অস্ত্রসহ পালিয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিরামেরকান্দি গ্রামে চলে আসেন। সেখানে হেমায়েত বাহিনী গঠন করে কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দিতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করেন।

একদিন পরিবারের খোঁজ নিতে যুদ্ধের ময়দান থেকে বাড়ি এসে দেখেন তার বউ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সন্তানদের একজনও বেঁচে নাই। 

মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার অপরাধে রাজাকাররা তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর চালিয়েছিল নির্মম নির্যাতন। 

পরিবারের এই করুন পরিনতির পর হেমায়েত গ্রাম ছেড়ে চলে যান। পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে গঠন করেন এক দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর শুরু করেন গেরিলা আক্রমণ।

বরিশাল, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর আর বাগেরহাটে  পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসরদের জন্য হেমায়েত ছিলেন এক মূর্তিমান আতংক।এই অঞ্চলে একের পর এক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করতে থাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। 

একদিন রামশীলের যুদ্ধে একটা বুলেট তার গালের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। এসময় তার আটটি দাঁত পরে যায়। দর দর করে রক্ত বের হচ্ছিল। এই অবস্থায়ও তিনি যুদ্ধ থামাননি।

একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে অজ্ঞান হয়ে যান হেমায়েত। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাহত করেছিল হেমায়েতের দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য সরকার তাকে বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত করে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামে হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে।

২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন চলে যান না ফেরার দেশে। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী জাদুঘর চত্বরেই তাকে সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশের মাটিতে এই রকম আরও অনেক হেমায়েত ঘুমিয়ে আছেন।

বিজয়ের মাসে বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। 'দ্যা ফিন্যান্স টুডে' পরিবার আজ কৃতজ্ঞচিত্তে ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের দু'র্ধ'র্ষ এই বীরকে।

Shamiur Rahman

Related