সোমালি জলদস্যুদের ছিনতাই করা জাহাজ উদ্ধারের দাবি ভারতীয় নৌবাহিনীর

Published: 17 March 2024 07:03

মাল্টার পতাকাবাহী বাল্ক কার্গো জাহাজ এমভি রুয়েনের ৩৫ জন জলদস্যুর সবাই আত্মসমর্পণ করেছে এবং জাহাজটিতে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে

সোমালিয়ার জলদস্যুদের ছিনতাই করা একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার করেছে স্পেশাল কমান্ডোসহ ভারতীয় নৌবাহিনী।

দেশটির নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ১৭ জন ক্রুকেও উদ্ধার করেছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে (আগের নাম টুইটার) এক পোস্টে নৌবাহিনী জানায়, মাল্টার পতাকাবাহী বাল্ক কার্গো জাহাজ এমভি রুয়েনের ৩৫ জন জলদস্যুর সবাই আত্মসমর্পণ করেছে এবং জাহাজটিতে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নিষিদ্ধ দ্রব্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে।  

গত বছরের শেষের দিকে এমভি রুয়েন ছিনতাই করা হয়। ভারতের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার জাহাজটির গতিরোধ করে।

নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাহাজে থাকা জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করতে এবং জাহাজসহ তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জিম্মি রাখা বেসামরিক নাগরিকদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ভারতীয় নৌবাহিনী সামুদ্রিক সুরক্ষা এবং এই অঞ্চলের নাবিকদের সুরক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ’

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি জাহাজ ছিনতাই করতে জলদস্যুরা উদ্ধারকৃত এই জাহাজটিকে ব্যবহার করে থাকতে পারে।

গত মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে দস্যুরা ৫৫ হাজার টন কয়লাবাহী জাহাজটি উপকূলে নিয়ে যায়। এরপর দুই দফায় জাহাজটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিন দুপুরে জাহাজটি গ্যারাকাদ উপকূল থেকে ৭ নটিক্যাল (১ নটিক্যাল মাইল= ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার) মাইল দূরে ছিল।

সেখান থেকে পরদিন শুক্রবার ৪০–৪৫ মাইল উত্তরে নিয়ে যায় দস্যুরা। শনিবার জাহাজটির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।

সোমালি জলদস্যুরা এক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জলপথে উৎপাতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গত বছরের শেষের দিকে আক্রমণের পুনরুত্থানের আগ পর্যন্ত তারা সুপ্ত ছিল।

পশ্চিমা শক্তিগুলো যখন ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলা মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করছে ভারত তখন জলদস্যুদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দিতে লোহিত সাগরের পূর্বাঞ্চলে অন্তত এক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।

সম্প্রতি ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি হামলার পর আরব সাগরেও নজরদারি বাড়িয়েছে ভারতের নৌবাহিনীও।

Shamiur Rahman

Related