রাজবাড়ীতে গৃহবধুকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক
পারিবারিক বিরোধের জের ধরে লতিফ কাজী তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। লতিফ কাজীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ
রাজবাড়ী জেলা সদরের বানিবহ ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে বিউটি বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আ. লতিফের বিরুদ্ধে।
নিহত বিউটির মেয়ে বলেন, 'রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে দেখি বাবা মাকে চাপাটি দিয়ে কুপিয়ে মারছে। দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে ছোট চাচাকে ডাকি। আমাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের সবাই ছুটে আসলে বাবা তখন পালিয়ে যায়।'
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর বার্থা গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিউটির মিম (১১) ও মুসা (৪) নামে ২টি সন্তান রয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত বিউটির বাবা বিল্লাল মোল্লা বলেন, আমার বাড়ির পাশেই বিউটি তার স্বামী সন্তাদের নিয়ে বসবাস করে। গতরাতে আমার নাতনি মিমের চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখি ওদের ঘরের মেঝেতে আমার মেয়ে বিউটির রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও নিহত বিউটির আপন চাচা আ. সালাম বলেন, ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে ওদের বিয়ে হয়। গত কয়েক বছর ধরে ওদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকতো। অনেকবার বুঝালেও সমাধান হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
নিহত বিউটির ভাই মো. পারভেজ মোল্লা বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার বোনের স্বামী আ. লতিফ ঝগড়া বিবাদ করতো। গতরাতে সে আমার বোনকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছে। আমরা দ্রুত তাকে গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই।
বিউটির মামাতো ভাই শাহিন মন্ডল জানান, ১২ বছর আগে আব্দুল লতিফ কাজীর সঙ্গে বোন বিউটির বিয়ে হয়। তাদের ১১ বছরের মেয়ে ও চার বছরের ছেলে আছে। কয়েকবছর ধরে তাদের প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিল। মধ্যরাতে বড় মেয়ে মীমের সামনে বিউটিকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় লতিফ। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার দাবি জানাচ্ছি।
বানিবহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী লুতফর রহমান বলেন, নিহত বিউটির স্বামী আ. লতিফ এলাকায় ফসল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতো। পারিবারিক ঝামেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে লতিফ কাজী তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। লতিফ কাজীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
Shamiur Rahman
