নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ
মূলত খাদ্যপণ্যের কিছুটা মূল্যহ্রাস গত মাসে মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা
দেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। গত নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশে। আর সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাসিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
মূলত খাদ্যপণ্যের কিছুটা মূল্যহ্রাস গত মাসে মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
চলতি বছরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার প্রথম দুই অংকের ঘরে ওঠে আগস্টে। ওই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অক্টোবরে তা ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকে।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে কমেছে। গত মাসে সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এদিকে অক্টোবরে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ থাকলেও নভেম্বরে তা কমে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সে হিসেবে নভেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে, অক্টোবরে যা ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
আমন মৌসুম শুরু, মাছ-মাংসের মূল্যহ্রাস, আমদানির কারণে ডিম ও আলুর দাম কমে যাওয়া, বাজারে শীতের সবজি ওঠায় কিছু পণ্যের দাম কমার প্রভাব নভেম্বরের মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আর এসব কারণেই গ্রামাঞ্চলে ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৬ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৮ শতাংশ। এছাড়া শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৫৮ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যদিও এ লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে অর্থনীতিবিদদের।
কেননা প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার না থাকায় আমদানি ব্যাহত হয়ে সংকট আরো বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। সুদহার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হয়।
Shamiur Rahman
