একসঙ্গে ছয় গ্রহ দেখা যাবে আকাশে
আগামী শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাসী অত্যন্ত বিরল ও মনোমুগ্ধকর এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় 'প্লানেটারি প্যারেড' বা গ্রহের শোভাযাত্রা বলা হচ্ছে; যেখানে সৌরজগতের বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি,
আগামী শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাসী অত্যন্ত বিরল ও মনোমুগ্ধকর এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় 'প্লানেটারি প্যারেড' বা গ্রহের শোভাযাত্রা বলা হচ্ছে; যেখানে সৌরজগতের বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন—এই ছয়টি গ্রহকে আকাশের একই অংশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করতে দেখা যাবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. শ্যাম বালাজির মতে, গ্রহগুলো তাদের কক্ষপথে পরিভ্রমণের সময় সূর্যের একই পাশে চলে আসায় পৃথিবী থেকে এগুলোকে একই সমতলে বা এক্লিপটিক অঞ্চলে সারিবদ্ধ মনে হবে, যদিও সূর্যাস্তের পর এই মাহেন্দ্রক্ষণ উপভোগ করার জন্য মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় পাওয়া যাবে।
এই মহাজাগতিক প্রদর্শনীতে শুক্র গ্রহ হবে সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু যা কুম্ভ নক্ষত্রমণ্ডলের কাছে দৃশ্যমান হবে এবং এর পাশাপাশি বৃহস্পতি, শনি ও বুধকে খালি চোখেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে, যদিও দিগন্ত পরিষ্কার না থাকলে বুধকে দেখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে।
তবে নেপচুন ও ইউরেনাসকে দেখার জন্য অবশ্যই শক্তিশালী দূরবীন বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন পড়বে, কারণ এদের অবস্থান শনি ও বৃষ নক্ষত্রমণ্ডলের কাছাকাছি হলেও তা খালি চোখে ধরা পড়ার মতো যথেষ্ট উজ্জ্বল নয়। বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রহগুলোর এই বিশেষ জ্যামিতিক বিন্যাসের ফলে পৃথিবীর ওপর কোনো প্রকার ক্ষতিকর মহাকর্ষীয় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ চাঁদ বা সূর্যের তুলনায় এদের সম্মিলিত আকর্ষণ অত্যন্ত নগণ্য।
উত্তর গোলার্ধের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই চমৎকার দৃশ্যটি দেখা যাবে, যা ২০২৮ বা ২০৩৪ সালের পরবর্তী সম্ভাব্য শোভাযাত্রার আগেই মানুষকে মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন করে ভাববার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে।
Shamiur Rahman
