শারদীয় উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ মেলা
গ্রাম কিংবা শহর, পূজা যেখানেই হোক না কেন মেলা বসবেই— তার আকার ও আয়তন যেমনই হোক। পূজা দেখতে গিয়ে মেলায় যদি কিছু নাই খান, তাহলে মেলায় যাওয়া ঠিক পরিপূর্ণ হবে না। এসব মেলার প্রধান আকর্ষণ খাবার। তবে মেলা হলো বৈচিত্র্যপূর্ণ মুখরোচক
রহিম মোল্লা নানান রকম লোভনীয় খাবার নিয়ে বসে আছে। পূজার এই কয়েক দিনে হাজার পঞ্চাশ টাকা মুনাফা হবে বলে তিনি জানান।অস্থায়ী এই দোকান ভাড়া নিয়েছেন আট হাজার টাকায়। দুই হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকাও গুনতে হচ্ছে ভাড়া বাবদ কোন কোন দোকানদারকে। কেউ কেউ আবার রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান খুলে বসেছেন বিভিন্ন পসরা নিয়ে।
গ্রাম কিংবা শহর, পূজা যেখানেই হোক না কেন মেলা বসবেই— তার আকার ও আয়তন যেমনই হোক। পূজা দেখতে গিয়ে মেলায় যদি কিছু নাই খান, তাহলে মেলায় যাওয়া ঠিক পরিপূর্ণ হবে না। এসব মেলার প্রধান আকর্ষণ খাবার। তবে মেলা হলো বৈচিত্র্যপূর্ণ মুখরোচক খাবারের কেন্দ্রবিন্দু।
পূজার মেলার খাবারের একটা বৈশিষ্ট্য আছে। এই মেলাগুলোতে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে মিষ্টিজাতীয় খাবার। এই মিষ্টিগুলো আমাদের প্রাচীন মিষ্টিজাতীয় খাবারের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এখনো।

যে মিষ্টি খাবার বছরের অন্য সময় খুব একটা দেখা যায় না, সেই বাতাসা, ড্যাপের খই, মুড়ি মুরকি, খাজা গজা, নারু সন্দেশ দেখা পাওয়া যায় মেলায়। স্বাদের বদল না হলেও এর গড়ন বড়ই বিচিত্র। সেগুলোর কোনোটার আকার গোল তো কোনোটা আবার ত্রিভুজ। কোনোটা লম্বাটে। ছাঁচে বানানো এই বাতাসাগুলোর কোনোটি হাতির আদলে বানানো, কোনোটি বানানো মাছের আদলে। কোনোটি আবার বানানো হয় গোল কদমের আকারে। কোনো কোনোটি কয়েনের মতো দেখতে। ছাঁচে বানানো বাতাসা আমাদের প্রাচীন মিষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
গুড়ের বা চিনির তৈরি মুরকি মুড়ি, খই, আড়হা মেলার অন্যতম খাবার। অঞ্চল ভেদে এর বিভিন্ন নাম আছে। কোথাও কোথাও এটির নাম খুরমা। আঙুলের মতো দেখতে বলে কোথাও এর নাম আঙুলি। নাম যা হোক বস্তু একই। ময়দা বা আটা খামির করে তেলে ভেজে এটি চিনি বা গুড়ের সিরায় ডুবিয়ে উল্টে পাল্টে মেখে নেওয়া হয়। সাধারণত আঙুলের মতো দেখতে হলেও এর আকারে ভিন্নতা আছে। মেলায় সেজেগুজে থাকতে দেখা যাবে প্রচুর পরিমাণে। এ ছাড়া মাটির তৈরি, কাঠের তৈরি সহ বিলুপ্ত অনেক জিনিস মেলায় পাওয়া যায়।
বিনোদ বিহারী জানান সারা বছর সব কিছু পাওয়া গেলেও এ সব মেলায় বিশেষ কিছু খাবার পাওয়া যায় যা সারা বছর খুজেঁ পাওয়া যায় না। রাজবাড়ী জেলায় প্রতিটি মন্দিরের পাশেই গড়ে উঠেছে এ সব অস্থায়ী দোকান।
Shamiur Rahman
