জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ার জের...
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরজুড়ে প্রকৌশলীদের তীব্র প্রতিবাদ
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিধি-বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়োগ প্রদান করায় অধিদপ্তর জুড়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর সমিতি প্রতিবাদ ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে দেশব্যাপী সড়ক ও জনপদ প্রক
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিধি-বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে নিয়োগ প্রদান করায় অধিদপ্তর জুড়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর সমিতি প্রতিবাদ ব্যানার টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে দেশব্যাপী সড়ক ও জনপদ প্রকৌশলী সমিতির প্রকৌশলীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিগত ২৪ জানুয়ারী ২০২৩ ইং তারিখে মোহাম্মদ শের মাহমুদ মুরাদ (উপ-সচিব) সাক্ষরিত স্মারক নং- ০৫.০০.০০০০.০২২.১২.৫৬ এ এক প্রজ্ঞাপনে আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী, পরিচিতি নং- ০০৫১৯৩ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যান্ত্রিক মেকানিক্যাল সার্কেল, বরিশাল কে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক চলতি দায়িত্ব) যান্ত্রিক উইং সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, সড়ক ভবন, তেজগাঁও এ পদায়ন করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই প্রকৌশলীদের মাঝে অধিদপ্তর জুড়ে চাপাক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করে আসছে। বর্তমানে তা প্রতিবাদ আকারে অধিদপ্তর সহ দেশব্যাপী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। অধিদপ্তরের আনাচে কানাচে সড়ক ও জনপদ প্রকৌশলী সমিতি ব্যানার ফ্যাস্টুন টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। সমিতির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ফিন্যান্স টু’ডে কে বলেন, অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যৈষ্ঠতার ক্রম অনুসরন না করে বিধি-বহির্ভূত ও অন্যায়ভাবে যে আদেশ জারি করা হয়েছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারন এ প্রচলন শুরু হলে ভবিষ্যতে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং প্রকৌশলীদের মাঝে পদোন্নতি প্রাপ্তিতে হতাশা বিরাজ করবে, পেশি শক্তি ও অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকার কর্মকর্তাগন পদন্নোতি প্রাপ্তিতে সুবিধা ভোগ করবে।
সাবেক একজন প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘনের ইতিহাস খুব একটা বেশি নেই। যেটা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে অধিক চর্চা হিসেবে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী যান্ত্রিক উইং এর একজন কর্মকর্তা মাত্র ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কাউকে পদন্নোতি দেওয়া হয়নি, এটা একটি ভালো লক্ষণ ছিলো। উক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশনে বর্তমানে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে যতক্ষন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগ যে কারো বিরুদ্ধে আসতেই পারে। এর অর্থ এই নয় যে উক্ত কর্মকর্তা দোষী। এর ফলে একজন কর্মকর্তা তার সারাজীবনের স্বপ্ন পদোন্নতি প্রাপ্তি তা পেয়েছে। এতে করে কর্মকর্তাদের মাঝে সন্তোষ বিরাজ করে ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসে। এটাই হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য যে, জ্যৈষ্ঠতা ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ সিনিয়র পদে কর্মকর্তাকে একটি বিভাগীয় তদন্তের দায়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ তিনি এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি। কিন্তু পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একটি দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত (যান্ত্রিক উইং) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরীর নিকট টেলিফোনে দ্য ফিন্যান্স টু’ডে জানতে চাইলে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন, পদন্নোতি প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সবদিক বিবেচনা করেই পদন্নোতি প্রদান করে থাকেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, জামাল উদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে যে বিভাগীয় তদন্ত চলছে একই অভিযোগে আমার বিরুদ্ধেও একটি তদন্ত চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে গনমাধ্যমে ২ প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
