নওগাঁয় পত্নীতলার সাবেক সাব-রেজিস্টার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সাবেক এই সাব রেজিস্ট্রার ও তার স্ত্রী বর্তমানে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি আলিশান ফ্ল্যাটে থাকেন যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কার রয়েছে যার নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-৩৮৩৩
নওগাঁয় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পত্নীতলা উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার বসু প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রী মিসেস শিবানী বোসের নামে মামলা করেছে নওগাঁ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৯ মে) তাদের নামে পৃথক দুটি মামলা করেন নওগাঁ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার বসু প্রদীপ কুমারের সম্পদের হিসাব বিবরণী তলব করে দুদক।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর তার জ্ঞাত আয় হিসেবে ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও ৪৩ লাখ ৬ হাজার ২৮৭ টাকা মূল্যের অস্থাবরসহ মোট ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ২২৭ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেন বসু কুমার প্রদীপ।
পরে অনুসন্ধান চালিয়ে ২৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৯ টাকার সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অপরদিকে, তার স্ত্রী মিসেস শিবানী বোস স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ৪০ ভরি স্বর্ণ সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে তিনি আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং আত্মীয় স্বজনদের থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং আত্মীয় স্বজনদের কাছে তার ২৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৫ টাকা ঋণ অপরিশোধিত রয়েছে। সেই হিসাবে ঋণ বাদে তার সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।
পরে অনুসন্ধান চালিয়ে ঋণ বাদে শিবানী বোসের কাছে ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়াও নিজের সম্পদ বিবরণীতে ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
এর আগে গত ২২শে মে, ২০২৩ ইং তারিখে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩ এর উপপরিচালক ড. মোঃ জহিরুল হুদা সাব রেজিস্ট্রার বসু প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রী মিসেস শিবানী বোসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহনের অনুমোদন দেন।


সাবেক এই সাব রেজিস্ট্রার ও তার স্ত্রী বর্তমানে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি আলিশান ফ্ল্যাটে থাকেন যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কার রয়েছে যার নম্বর ঢাকা মেট্রো গ ৩৫-৩৮৩৩।
দীর্ঘদিন সাব রেজিস্টার পদে চাকুরীর সুবাদে নানা অনিয়ম ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বসু প্রদীপ কুমার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনের চোখ ফাকি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
নওগাঁ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, সাবেক সাব রেজিস্ট্রার বসু প্রদীপ কুমার অবৈধ উপায়ে টাকা উপার্জন করেছেন এবং তার স্ত্রী শিবানী বোসকে অবৈধ সম্পদ উপার্জনে সহায়তা করেছেন। তাঁদের সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এ ধরনের কর্মকান্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Shamiur Rahman
