গভীর সংকটে নিমজ্জিত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি
কোম্পানীর একাই ৪টি পদ দখল করে আছে আইন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন
মোঃ জহির উদ্দিন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ একাধারে কোম্পানী সচিব, হেড অব এইচ আর, হেড অব উন্নয়ন ও প্রশাস
মোঃ জহির উদ্দিন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ একাধারে কোম্পানী সচিব, হেড অব এইচ আর, হেড অব উন্নয়ন ও প্রশাসন ও লিগ্যাল কর্মকর্তা। একাই কোম্পানির চারটি পদ দখল করে আছে। জহির উদ্দিন ইতোপূর্বে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এ চাকুরী কালীন সময়ে নানাবিধ দুর্নীতি প্রতারনা, অর্থ আত্মসাৎ, চুরি ও শেয়ার জালিয়াতির কারনে কোম্পানী থেকে চাকুরীচ্যুত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর আইন কর্মকর্তা জুবায়ের রহমান মতিঝিল থানায় জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালতের মাধম্যে উক্ত মামলার নিষ্পত্তি হন বলে জানান জহির উদ্দিন। জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বীমা নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা আইডিআর, দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ- মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ইতোমধ্যে জমা পড়েছে।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবেদক দেখতে পান প্রতিদিন শত শত গ্রাহক তাদের বীমার জমাকৃত টাকা উত্তোলনের জন্য ভিড় করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা মাসের পর মাস ঘুরেও তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারছেনা। এ ব্যাপারে একাধিক অভিযোগ এ প্রতিবেদকের কাছে ব্যক্ত করেছে কোম্পানীর গ্রাহকরা। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ পুর্তী হওয়ার সাথে সাথেই গ্রাহকের টাকা ফেরত প্রদানের বিধান রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত এ বীমা কোম্পানীটির মালিক পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারনে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেনা। অথচ কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তারা ঠিকই নিয়মিত ভাবে মোটা অংকের বেতন ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। একজন ব্যক্তি যখন চারটি পদ একাই দখল করে থাকে তখন বোঝা যায় কোম্পানীর ভিতরে সংকট কতটুকু বিরাজমান। কোম্পানীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, স্বজন প্রীতি, অনিয়ম এতটাই বিরাজমান যে পরিচালনা পর্ষদ এর এক পক্ষ অপর পক্ষের মুখোমুখি। আর এ সুযোগের সদ্ব্যহার করছে এক শ্রেনির কর্মকর্তারা।
কোম্পানীর অত্যন্ত ক্ষমতার ধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জহির উদ্দিন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এ ১৯৯৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানেও তিনি দুর্নীতি, অর্থ- আত্মসাৎ ও প্রতারনার কারনে চাকুরীচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রগ্রেসিভ লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন ৪টি পদ নিয়োগ আইনের কোন বাধা নেই।
আগামী ১লা মার্চ জাতীয় বীমা দিবস। অত্যন্ত ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উৎযাপিত হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বীমা দিবসের। অথচ বীমা খাতে আজও জনগনের আস্থা ফিরি আসে নাই। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে জনগন তাদের আমানতের টাকা সঠিক ভাবে ফিরে পাচ্ছেনা।
সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর বীমা খাতে এক ধরনের চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে যার প্রভাব পরছে দেশজুড়ে পুরা বীমা খাতে ও বীমা খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে। কার্যত বীমা খাতের দায়িত্বশীল উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা মুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর এ খাতে চরম ইমেজ সংকট বিরাজ করছে।
বীমা খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনাই বর্তমানে মূল চ্যালেঞ্জ। এর জন্য প্রয়োজন বীমা খাতের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও কালো বিড়ালদের খুজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধান বাস্তয়ায়ন করা। কোন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যেন বীমা খাতে চালকের সামনে না থাকে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
