তালা ভেঙ্গে রাতের আঁধারে হাসপাতালের ফার্মেসী দখল এর অভিযোগ

কি ঘটছে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে?

Published: 07 October 2025 12:10

ছবি: সংগৃহীত

অতি সম্প্রতি স্বাস্থ্য অদিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে মো. পারভেজ সরকার নামক একজন ব্যবসায়ী মনসুর আলী ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান ও ট্রেজারার তমাল মনসুর

৫ আগস্ট ২০২৪ জুলাই বিপ্লবের পর উত্তরা শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তি পরিচালনার জন্য চেষ্টা করছে যা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তির কোটি কোটি টাকার খেলার কাছে হার মেনেছে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি। এদেরকে হটিয়ে অদৃশ্য সমঝোতায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পূনরায় দখল নেয় শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট।

অতি সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে মো. পারভেজ সরকার নামক একজন ব্যবসায়ী মনসুর আলী ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান ও ট্রেজারার তমাল মনসুর এর ২৪/০৮/২০২৫ ইং তারিখের চুক্তি বাতিলের নোটিশের বরাত দিয়ে একটি পত্র দেয়। উক্ত চিঠিতে ব্যবসায়ী পারভেজ সরকার ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান ও ট্রেজারারের চিঠিকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে। দুটি চিঠিতে পারভেজ সরকার চুক্তি মোতাবেক মেসার্স তারেক মেডিকেল স্টোর ও পাঁচফোড়ন ক্যাফেটেরিয়ার মালিক বলে উল্লেখ করেন। শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যানের ১৫/১০/২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী তারেক মেডিকেল স্টোরের মেয়াদ শেষ হবে ১৫/১০/২০২৮ ইং ও পাঁচফোড়ন ক্যাফেটেরিয়ার ০১/০৭/২০২৫ ইং তারিখের চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হবে ০১/০৭/২০৩০ ইং তারিখে।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করিয়া ২৪/০৮/২০২৫ ইং তারিখে চিঠি দিয়ে পারভেজ সরকারকে তার ব্যবসা পরিচালনায় বাধা প্রদান করে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠিতে উল্লেখ করেন। একই চিঠি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ট্রেজারারকে প্রদান করেন।

এ নিয়ে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জুড়ে এক ধরণের আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ০৬/১০/২০২৫ ইং তারিখে কর্তৃপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক তালা ভেঙ্গে মেডিকেল স্টোর দখল করে নেয়। উল্লেখ্য যে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ চুক্তি পুন:নবায়ন করে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার অধিকার রাখে। কিন্তু রাতের আঁধারে তালা ভেঙ্গে কিভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয় এ প্রশ্ন ব্যবসায়ী পারভেজের। এ রকম একটি ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এ ব্যাপারে ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থেকে হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। জুলাই বিপ্লবের পর হাসপাতাল নিয়ন্ত্রকদের হটিয়ে দিয়ে বর্তমান ট্রাস্টের পর্ষদ হাসপাতালটি পুনরায় দখল করেছে।

জুলাই বিপ্লবের পর বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারীরা দেশের বাহিরে থেকেও তাদের ফ্যাসিস্ট আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী উঠেছে। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের ছেলে বর্তমান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ট্রেজারার। সারাদেশে ফ্যাসিস্ট এর অনুসারীগণ পলাতক থাকলেও শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট এর পরিচালনায় রয়েছে ফ্যাসিস্ট এর অনুসারীগণ। এ নিয়ে জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Related