ডুপ্লিকেট এনআইডি, জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিন
দিনাজপুর নারী চেম্বারের সাবেক সভাপতির মামলা সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আদালতের
নালিশী অভিযোগে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স গ্রহণ এবং টিআ
বহুল আলোচিত ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার, জালিয়াতি, প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং দিনাজপুর নারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের জামিন মঞ্জুরের ঘটনায় ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ পূর্বনির্ধারিত শুনানিতে এই মামলাটি সংবেদনশীল উল্লেখ করে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ প্রদান করেছেন।
আদেশে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে তিনটি ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন, ব্যাংক হিসাব খোলা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স গ্রহণ এবং টিআইএন সনদ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৪৬৫, ৪৬৬ ও ৪৭১ ধারায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এটি জালিয়াতি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একটি সংবেদনশীল মামলা যেখানে একাধিক এনআইডি জালিয়াতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই কারণে বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে নেপথ্যের দোষীদের খুঁজে বের করতে মামলাটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা দ্বারা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও অত্র মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ পৃথকভাবে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে প্রদান করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
বিজ্ঞ আদালত সিআইডিকে মামলাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগপত্র প্রেরণের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ০৭ই জুন পরবর্তী শুনানির দিন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপর নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর নারী চেম্বারের সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি লীগনেত্রী শাহিনুর ঢাকায় আটক
উল্লেখ্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এসেট প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক খন্দকার খালেদ রিয়াজের দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং দিনাজপুর ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে গত ৪ঠা এপ্রিল (রবিবার) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ভবনের সামনে থেকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ।
থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীনুর জানান, এসেট প্রকল্পের কতিপয় প্রকৌশলীর প্ররোচনায় তিনি এসেট প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক জনাব খন্দকার খালেদ রিয়াজ ও দিনাজপুরের একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধানের নামে দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
থানা সূত্রে আরও জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে এসেট প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় উক্ত মামলা করেছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী ৫ই এপ্রিল বিকাল ৪টায় তাকে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মুচলেকা নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর নারী চেম্বারের সাবেক সভাপতি শাহিনুরের জামিন মঞ্জুর
মামলার শুনানিতে অভিযোগকারী এসেট প্রকল্পের সাবেক উপপ্রকল্প পরিচালক খন্দকার খালেদ রিয়াজ আদালতকে জানান, আসামী জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে ডুপ্লিকেট এনআইডি ব্যবহার করার অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তকালে তিনি ডুপ্লিকেট এনআইডি ব্যবহারের প্রমাণ পান এবং পরবর্তীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিল করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত জান্নাতুল সাফা শাহিনুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আসামী শাহিনুরের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান পূর্বে চুক্তি বাতিল করলেও দিনাজপুর ওমেন চেম্বারের অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শাহীনুরকে পুনরায় নতুন চুক্তি করে কাজ দিয়েছেন।
এছাড়া, অভিযুক্ত জান্নাতুল সাফা শাহীনুর আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর আদালতে অভিযোগকারীসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
Shamiur Rahman

Please share your comment: