সন্ত্রাসবাদের ঘটনা তদন্তে মালয়েশিয়াকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ
আটককৃত ৩৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অপরাধে মালয়েশিয়ার শাহ আলম ও জোহর বারু সেশন কোর্টে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জন এখনো তদন্তাধীন রয়েছেন
সন্ত্রাসবাদের ঘটনা তদন্তে মালয়েশিয়াকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, তারা উগ্র জঙ্গি আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অভিযানে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।
সূত্র মতে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাকিদের আরও তদন্ত বা ফেরতের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাংলাদেশ আবারও সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস চরমপন্থা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এই বিষয়ে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আইএস-এর মতাদর্শ ও সহিংস চরমপন্থায় প্রভাবিত হয়ে একটি চরমপন্থি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির পুলিশ।
সোমবার (৩০ জুন) সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মালয়েশিয়ায় আটক ৩৬ বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে জড়িত।
মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল বলেন, আইএস চরমপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত কিছু বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়ার সিকিউরিটি অফেন্সেস (স্পেশাল মেজারস) অ্যাক্ট ২০১২ এর আওতায় আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
খালিদ ইসমাইল জানান, কয়েকজন এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানান, এই সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযানটি ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। সেলাঙ্গর ও জোহর প্রদেশে তিনটি ধাপে এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃত ৩৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অপরাধে মালয়েশিয়ার শাহ আলম ও জোহর বারু সেশন কোর্টে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
১৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জন এখনো তদন্তাধীন রয়েছেন। মালয়েশিয়ার পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই বাংলাদেশি গোষ্ঠীটি দেশে আইএস-এর আদলে নতুন সেল তৈরি করছিল।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে চরমপন্থি মতাদর্শ প্রচার করা। সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা এবং নিজ দেশে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করা।
Shamiur Rahman
