দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম
রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়েছে
রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের এক ধাপ অবনতি হয়ে বর্তমানে ১৩তম স্থানে দাঁড়িয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রতিবেদনটি তুলে ধরে জানান যে, ২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ২৩-এ নেমে এসেছে, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪২-এর তুলনায় অর্ধেকেরও কম। যদিও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়ার মন্থরতা, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির বিস্তার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্যর্থতার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বাদে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা অনেক বেশি। ড. ইফতেখারুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে আরও যুক্ত করেন যে, আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতার ফলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যা থেকে উত্তরণের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। অন্যদিকে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ৮৯ স্কোর নিয়ে ডেনমার্ক বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে এবং দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া মাত্র ৯ স্কোর নিয়ে তালিকার তলানিতে অবস্থান করছে। সার্বিকভাবে, দুর্নীতি প্রতিরোধে বড় ধরনের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান সূচকে নিম্নমুখী হওয়া জাতীয় অগ্রগতির পথে এক বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
Shamiur Rahman
