জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ঝরনা ও স্টোর কিপার রাজু’র ক্ষমতার অপব্যবহার

Published: 22 April 2025 18:04

৫ই আগস্টের আগে সরাসরি আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে যারা সুবিধা ভোগ করেছে তারাই ৫ই আগস্টের পর হঠাৎ বিএনপি জামায়াতের ব্যানারে নাম লিখিয়েছে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে হৃদরোগেের জন্য বিশেষায়িত সরকারী একমাত্র এই হাসপাতাল। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি গ্রাস করে রেখেছে এই হৃদরোগ হাসপাতালটিকে। এখানে একজন নার্সের আচরণ দেখলেই বুঝা যায় সে কতটা বেপরোয়া।

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ঝরনা বেগম ২০২২ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হজ্জে গিয়েছিল। তখন তিনি পরিচয় দিয়েছেন তার পরিবার আওয়ামী পরিবার। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর সুর পরিবর্তন করে এখন তিনি বলছেন বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ তার আপন ফুফাতো ভাই এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব তার নিকটাত্মীয়।

সচিব মহোদয় নিজে নাকি ফোন করে ঝরনা বেগমকে হজ্জে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেকের সাথে তার ছবি বলে দিচ্ছে তিনি কতোটা সেয়ানা।

ঝরনা বেগমের হজ্জে যাওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলছেন এই বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। সে নাকি সরাসরি মন্ত্রনালয় থেকে অনুমতি পাশ করে নিয়েছে।

ঝরনা বেগমের নিকট হাসপাতালের অনুমতি পত্র চাওয়া হলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন আপনাকে কেন দেখাবো। এরপর তিনি তার স্বামীর কথা উল্লেখ করে বলেন যে আমার স্বামীও সাংবাদিক।

এদিকে, হাসপাতালের অনুমতি পত্রের বিষয়ে প্রশাসনও কিছু বলতে পারছে না। নার্স সুপারকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ঝরনার হজ্জে যাওয়ার বিষয়ে শুনেছি তবে সে আমার নিকট থেকে কোনো ছাড়পত্র বা অনুমতি নেয়নি। সে পতিত সরকারের সময়ও আওয়ামী পরিবারের লোক বলে অনেজ সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে। এখন সমন্বয়ক ফুফাতো ভাই, সচিব আত্মীয় এই দোহাই দিয়ে হাসপাতালের সবাইকে তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে চলছে। এখনো যদি ফ্যাসিস্টদের লোকজন ভোল পাল্টে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তাহলে গত ১৬/১৭ বছর যারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো তাদের জন্য এই সরকার বা প্রশাসন কি উপহার দিলো। এই বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ মন্ত্রনালয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করছি এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার।

স্টোর কিপার রাজু’র এত ক্ষমতার উৎস কোথায়?

তার নাম রাজু আহম্মেদ। তিনি জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে বর্তমানে স্টোর কিপার (জেনারেল)। এই হাসপাতালে তার আয়রন ম্যান হিসাবে নিয়োগ পাওয়া। এই রাজু কর্মকর্তাদের মন জয় করে ভাগিয়ে নিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্টোরের দায়িত্ব। এই স্টোরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজু’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এই চাঁদাবাজিতে রাজুকে ব্যবহার করে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে রাজু প্রতি ওয়ার্ড থেকে ৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছে। এর কারণ হিসাবে যা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওয়ার্ড থেকে পুরনো ভাঙ্গাচোরা মালামাল সরানো বাবদ এই টাকা উত্তোলন।

এই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তারা যেন আকাশ থেকে মাটিতে পরেছে ভাব খানা এমনই ছিলো। অথচ এদের মদদ ছাড়া রাজু কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনা।

রাজুকে দিয়ে প্রশাসন এর আগেও ওয়ার্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেছে। তখন প্রতি ওযার্ড থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা উঠিয়েছে রাজু। তখন বলেছিলো অডিট অফিসারদের টাকা দিতে হবে। টাকা ঠিকই তোলা হয়েছে কিন্তু সেই টাকা অডিট অফিসারকে দিয়েছে নাকি নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছে; তার কোন হদিস নেই।

আইসিইউ, সিসিইউ সহ হাসপাতালে প্রায় ৩০ টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতি বছর এক-একটা বাহানা ধরে কুচক্রী মহল এভাবেই ওয়ার্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছে বছরের পর বছর।

পতিত সরকারের সময় যে সকল কর্মকর্তাগন সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলো এখনো তারা বহাল তবিয়তেই রয়েছে। ৫ই আগস্টের আগে সরাসরি আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে যারা সুবিধা ভোগ করেছে তারাই ৫ই আগস্টের পর হঠাৎ বিএনপি জামায়াতের ব্যানারে নাম লিখিয়েছে। সুকৌশলে তারা বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম কোরাম তৈরি করে বর্তমানে হাসপাতালের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সব সুবিধাজনক অবস্থায় তারাই রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বদলির ভয় দেখিয়ে কোনঠাসা করা হয়েছে।

হাসপাতালের এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট কোন পরিচালক আজ পর্যন্ত দমাতে পারে নাই। প্রথম প্রথম একটু কঠোর হলেও একটা সময় পরিচালকগন তাদের কব্জায় চলে যায়। অনেকের প্রমোশনও অবৈধভাবে হয়েছে। অনেকে ১৬/ ১৭ গ্রেডে চাকরি করে সুবিধা নিচ্ছে ৯ম গ্রেডের।

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এর আগেও নিউজ করার কারণে অনেক সময় ধমকি-ধামকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা একাধিক দায়িত্ব পালন করছে, অথচ ঐ কর্মকর্তার দায়িত্বে তা পড়ে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার এসব কর্মকর্তাদের বিষয়েজাতীয় তথ্য আইনে তথ্য চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ যদি কর্মকর্তাদের তথ্য গণমাধ্যমকে দিয়ে সহায়তা করতো তাহলে হয়তো তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গণমাধ্যমের সুবিধা হতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে সহায়তা না করে প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়েছেন।

Shamiur Rahman

Related