রাজবাড়ীতে টমেটোর বাম্পার ফলনে লাভের আশা

Published: 05 February 2026 09:02

এই বছর বিউটি ফুল, বিউটি প্লাস, বিপুল প্লাস, বাহুবলি, নাইচফুল ও মানিকসহ কয়েক জাতের টমেটোর আবাদ করেছে কৃষক। তবে জাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে বাহুবলি টমেটো

রাজবাড়ীতে চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন কৃষক। অসময়ে যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে চলতি বছরে টমেটো চাষীরা লাভবান হবেন বলেন আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্পস্রারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে থেকে জানা যায়, চলতি বছরে জেলায় ৬৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায়ই অর্ধেকের বেশি ৩৫০ হেক্টর। ইতিমধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় ২৬০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর, পাংশায় ৫০ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও বালিয়াকান্দিতে ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে।

এই বছর বিউটি ফুল, বিউটি প্লাস, বিপুল প্লাস, বাহুবলি, নাইচফুল ও মানিকসহ কয়েক জাতের টমেটোর আবাদ করেছে কৃষক। তবে জাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে বাহুবলি টমেটো।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট, দাদশী, মিজানপুর ও কালুখালী উপজেলার মদাপুর ও হরিণবাড়িয়া চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, পদ্মাতীরবর্তী এলাকায় দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ। মাঠে টমেটো, পেঁয়াজ, বেগুন, মরিচ, বাধাকপি, সরিষা ও ফুলকপিসহ নানা ধরণের সবজির আবাদ হয়েছে। মাঠে কৃষক তার জমিতে নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোন কৃষক তার জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কোন জমিতে নারীরা মরিচ তুলছেন। কেউ ব্যস্ত জমির আগাছা পরিষ্কার করতে। কোন কোন ক্ষেতে কৃষক পাঁকা টমেটো তুলে রোদ্রে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ আবার টমেটো বাজারে বিক্রির জন্য বাছাই করছেন। কেউ কেউ ক্ষেত থেকে টমেটোর ঝুড়ি মাথায় করে পাকা রাস্তার উপর নিয়ে প্লাস্টিকের তৈরি ছিদ্রযুক্ত ঝুড়িতে পরিবহন করার প্রস্তুত নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের কাচরন্দ গ্রামের কৃষক শরিফুল মন্ডল দুইদিন ধরে টমেটো তুলে ক্ষেতের এক পাশে বড় স্তুপ করেছেন। সেই স্তুপের এক পাশে বসে তার পরিবারের নারী সদস্য নিয়ে টমেটো বাছাই করছেন।

শরিফুল বলেন, “চলতি বছর ৫৬ শতাংশ জমিতে বিউটিপ্লাস জাতের টমেটোর আবাদ করেছিলাম। আমি একটু আগাম টমেটোর চাষ করেছিলাম। প্রথম দফায় গাছগুলো মারা গিয়েছিল। তারপর সেই জমিতে আবারও টমেটোর চারা রোপণ করি। প্রথমে ভেবেছিলা ধরবে না কিন্তু আল্লায় যথেষ্ট দিয়েছে। ৭৫ টাকা কেজি থেকে আমি বিক্রি শুরু করেছি। এখন দাম একটু কমেছে তাও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন পর্যন্ত লাভে আছি”।

রিমন সরদার নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘তিনি ২ বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদ করেছেন। এক বিঘায় বিউটিপ্লাস ও আরেক বিঘায় বিগল প্লাস। দুই জমিতেই পর্যাপ্ত পরিমানে টমেটো ধরেছে। বিঘাপতি টমেটো আবাদে খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এখন ভালো দাম পাচ্ছেন। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে বিঘা প্রতি তিনি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। এতে তার বড় অঙ্কের লাভ হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরে সারা দেশেই টমেটোর আগাম চাষটা একটু কম হয়েছে। কৃষক এই বছর একযোগে টমেটো চাষ না করে স্তরে স্তরে টমেটোর চাষ করছে। টমেটো যেমন বাজারে উঠছে আবার অনেক জমিতে কেবলমাত্র রোপণ করা হচ্ছে। চলমান সময়টি টমেটো চাষের জন্য উপযুক্ত সময় হলেও কৃষক সারা বছরই এখন টমেটো চাষ করছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে কিছুদিন আগে সবজির দাম কমে গিয়েছিল। এখন আবার কিছুটা বেড়েছে। উৎপাদনের তুলনায় মোটামুটি চাহিদা থাকায় বাজারের আসার সঙ্গে সঙ্গে টমেটো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। টমেটোর দামটা ভালো পাওয়ায় কৃষক কিছুটা লাভবান হচ্ছে।

Shamiur Rahman

Related