মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

Published: 07 May 2026 06:05

রাউজানের গহিরা মোবারকখীল হ্যাচারি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

বুধবার (৬ মে) দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ঘিরে রাউজানের গহিরা মোবারকখীল হ্যাচারি পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।

বুধবার (৬ মে) দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ঘিরে রাউজানের গহিরা মোবারকখীল হ্যাচারি পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন।

সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে গড়ে উঠা এই হ্যাচারি পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অবকাঠামো, মাছের পোনা উৎপাদন কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম রাহাতুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল হাসান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু, রাউজানের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম এবং হাটহাজারীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা হ্যাচারির বর্তমান কার্যক্রম, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী তা গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে হালদা নদীর ডিম ও রেণু উৎপাদনের খোঁজখবর নেন। সংগ্রহকারীরা জানান, বর্তমানে হালদা নদীর এক কেজি রেণু পোনার দাম এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পরবর্তীতে তা বেড়ে এক লাখ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল হালদা নদীতে কার্পজাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ মাছের মা মাছ প্রথম দফায় ডিম ছাড়ে। এ সময় নদীর দুই পাড়ে জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে ডিম সংগ্রহে অংশ নেন। পরে এসব ডিম হ্যাচারি ও মাটির কুয়ায় সংরক্ষণ করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হালদা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্য খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related