দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমনে এনবিআর সদস্য বেলাল
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম একটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, বেলাল হোসেন চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরূদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মুসক বাস্তবায়ন) বেলাল হোসেন চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে (১৮/০৯/২০২৫) বাংলাদেশ থেকে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন।
দুর্নীতির মামলায় আদালত কর্তৃক দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা (সংযুক্তি-১) সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য (মুসক বাস্তবায়ন) বেলাল হোসেন চৌধুরীকে সম্প্রতি একটি প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার সরকারি আদেশ (জিও) দিয়েছিলো অর্থ মন্ত্রণালয়।
এই সরকারি আদেশকে ব্যবহার করেই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে বোকা বানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন এনবিআরের এই আলোচিত সদস্য বেলাল হোসেন চৌধুরী। গতরাতে তিনি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য যে, গত আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম একটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, বেলাল হোসেন চৌধুরী এবং তার স্ত্রীর বিরূদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে।
কিছুদিন আগে কোন ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্টার টেক লিমিটেড নামক কম্পিউটার যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বেলাল হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমনের অনুমোদন দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
উল্লেখ্য, স্টার টেক লিমিটেডের চেয়ামম্যান মো: রাশেদ আলী ভূঁইয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের ঘনিষ্ঠজন। মূলত মন্ত্রীর সুপারিশেই বাংলাদেশ কম্পিটার সমিতির চট্টগ্রাম শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল রাশেদ আলী ভূঁইয়াকে।
আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এই প্রতিষ্ঠানটির বিরূদ্ধে রয়েছে মানি লন্ডারিং এর নানা অভিযোগ। স্বয়ং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেই উক্ত অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত হচ্ছে। এই ধরনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমন কতটা যুক্তিসংগত তা কারও বোধগম্য হচ্ছে না।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিরেকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমন ও প্রশিক্ষন খরচ কিভাবে প্রেরন করা হলো, তাও তদন্ত করা সমীচিন।
এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরূদ্ধে বেনাপোল কাস্টমসে স্বর্ন চুরি, বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ পাচার, অনুমতিবিহীন বিদেশ ভ্রমন, পরিবারের সদস্যদের বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহন এবং লাগামহীন ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে দুদকের তদন্ত চলমান।
এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২টি দেশের বর্ডার পুলিশ, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে যে তারা যেন বেলাল হোসেন চৌধুরিকে অবতরনের পরপরই ডিপোর্ট করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
বেলাল হোসেনকে বহনকারী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমান SQ447 শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় সিঙ্গাপুরে অবতরণ করে। যাত্রাবিরতি শেষে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কানেকটিং ফ্লাইট SQ211 সিডনির উদ্দেশ্যে সকাল ০৯.২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করে। এই বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭.২৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া সিডনিতে অবতরণ করবে।
বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গুরুতর দুর্নীতির অনুসন্ধান চলমান এবং তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ যদি তার মতো একজন দুর্নীতিবাজকে তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়, তাহলে তা হবে লজ্জার।
সূত্র: আল জাজিরার বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের
Shamiur Rahman
