ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা
বংশালে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু
ঘটনাস্থলেই দুই পথচারীর মৃত্যু হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরেকজন।
ছুটির দিনের সকালে শক্ত ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি, আতঙ্ক ছড়াল ঢাকাসহ সারা দেশে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সময় স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত শিশু সহ ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
সকালে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
বংশাল থানার ওসির রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমিকম্পের মধ্যে কেপি ঘোষ স্ট্রিটের ওই পাঁচ তলা ভবন থেকে রেলিং ভেঙে পড়ে।”
সেখানে ঘটনাস্থলেই দুই পথচারীর মৃত্যু হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরেকজন।
আরও পড়ুন: ৫.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা, নিহত ৬
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭ ।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর ঘোড়াশালে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।
২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক ছড়ায়, বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এরপর আসতে থাকে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।
এই ভূখণ্ডে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রাণঘাতি ভূমিকম্প দেশের মানুষ আর দেখেনি।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “দুটো প্লেটের সংযোগস্থল ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে এই ভূমিকম্পটি হয়েছে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে আসে। ঝাঁকুনিতে অনেকের বাসায় শেলফ ও টেবিল থেকে জিনিসপত্র পড়ে যায়।
কম্পন থামার পর ঢাকার বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ভবনে ফাঁটল ধরার এবং পলেস্তরা খসে পড়ার খবর এসেছে।
Shamiur Rahman
