কী এই গ্লোয়িং ওয়াটার ট্রেন্ড?

Published: 24 June 2025 11:06

হলুদ গুঁড়ো পুরোপুরি গলে না, বরং পানিতে ছোট ছোট কণায় ভেসে থাকে। এর ফলে এমন একটা ঘোলাটে মিশ্রণ তৈরি করে, যাকে বলে সাসপেনশন। এই ভাসমান কণাগুলোর কারণেই আলো ছড়িয়ে পড়ে। আর এই ছড়িয়ে পড়াই টিনডাল ইফেক্ট নামে পরিচিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল এই গ্লোয়িং ওয়াটার। পানির মধ্যে হলুদ মিশালেই ঝিলমিল করে জ্বলতে থাকে সোনালি আলো। ফোনের ফ্ল্যাশলাইট, এক গ্লাস পানি আর এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে বানানো হচ্ছে এক সোনালি আলোর দৃশ্য। এই দীপ্তিময় জাদুতে মুগ্ধ হচ্ছে শিশু থেকে বড় সবাই।

সম্প্রতি গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে গ্লোয়িং ওয়াটার রহস্য। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকলে দেখা যায় গ্লোয়িং ওয়াটারের ভিডিও। এই গ্লোয়িং ওয়াটারের ভিডিওর ট্রেন্ডটি শুরু হয়েছিল টিকটকে। তবে এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।

কীভাবে বানাবেন এই গ্লোয়িং ওয়াটার; তা জানিয়েছে সপ্তম এবং তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী অদ্রি এবং বর্ণ। হলুদ গুঁড়ো পানিতে মেশালে যে আলো ছড়িয়ে পড়ে, সেটাই টিনডাল ইফেক্ট। এই ঘটনাটি ঘটে— যখন আলো খুব ছোট কণার সঙ্গে ধাক্কা খায় — যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু পানির অণুর চেয়ে বড়। হলুদ গুঁড়ো পুরোপুরি গলে না, বরং পানিতে ছোট ছোট কণায় ভেসে থাকে। এর ফলে এমন একটা ঘোলাটে মিশ্রণ তৈরি করে, যাকে বলে সাসপেনশন। এই ভাসমান কণাগুলোর কারণেই আলো ছড়িয়ে পড়ে। আর এই ছড়িয়ে পড়াই টিনডাল ইফেক্ট নামে পরিচিত।

এই নামটা এসেছে আইরিশ বিজ্ঞানী জন টিনডালের নাম থেকে। সোজা কথায়, হলুদের কণা আর আলো মিলেই তৈরি করে এই মজার বৈজ্ঞানিক খেলা।

১. প্রথমে ফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করে তা টেবিলের ওপর ফেস-আপ করে রাখুন।
২. এরপর ফ্ল্যাশলাইটের ওপর একটি কাচের স্বচ্ছ গ্লাস রাখুন।
৩. গ্লাসের কিছু পানি ঢেলে নিতে হবে।
৪. মনে করে রুমের লাইট বন্ধ করে হবে।
৫. এবার এক চিমটি হলুদ (বা ভিটামিন বি২ ক্যাপসুল গুঁড়া করে) পানিতে ঢেলে দিন। ব্যস, তারপরই দেখতে পারেন সোনালি আলো।

অন্ধকার ঘরে জ্বলছে শুধু ফোনের ফ্ল্যাশের আলো। আর ফোনটাকে উল্টো করে তার ওপর রেখে দেওয়া হয়েছে একটি পানিভর্তি কাঁচের গ্লাস। ওরই মধ্যে বলা নেই– কওয়া নেই, ঢেলে দেওয়া হলো এক মুঠো হলুদের গুঁড়ো। ব্যস, ওটুকুই। হলুদ গুঁড়ো ঝরে ঝরে পড়ছে পানিতে, মনে হচ্ছে হ্যারি পটারের জাদুর জগতের কোনো দৃশ্য– কিংবা পৌরাণিক যুগের যুদ্ধে ঝরে পড়ছে আগুনের স্ফূলিঙ্গ!

কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের নিউজফিডে ঢুকলেই এমন একটি দৃশ্য বারবার চোখের সামনে পড়ছে। আর ফেসবুকে কিছু ভাইরাল হওয়ার মানেই হচ্ছে রাতারাতি তা একটি ট্রেন্ডে পরিণত হওয়া। আর ট্রেন্ড মানেই তার পক্ষে যত কথা থাকবে, বিপক্ষে থাকবে আরো বেশি। তাইতো একদিকে যেমন মুগ্ধ চোখে, হরেক রকম মুখভঙ্গিতে ছোট থেকে বড় সকলেই এই ট্রেন্ডের অংশ হচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে এ নিয়ে চলছে হাস্যরসের জোয়ার। কেউ কেউ এককাঠি সরেস হয়ে জানতে চাইছেন— শুধু হলুদ গুঁড়োই কেন, চিনি-লবণ-মরিচ কী দোষ করল? কেউ আবার দোকানে হলুদ গুঁড়ো শেষ– এমন ছবি দিয়ে 'মিম' বানাচ্ছেন। কেউ ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে মায়ের বকুনি খাচ্ছেন, সেটাকেই আবার পাল্টা ভিডিও হিসেবে পোস্ট করে দিচ্ছেন। মোট কথা অনলাইন দুনিয়ায় এখন রাজত্ব করছে হলুদের গুঁড়ো।

কাঁচের গ্লাসে পানি থাকলে ফোনের আলোতেও প্রতিফলন ও প্রতিসরণের খেলা ঘটে, কারণ কাঁচ আর পানির প্রতিসরণ সূচক ভিন্ন। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা একদম বৈজ্ঞানিক, কিন্তু দেখতেও দারুণ মজার— বুড়ো থেকে বাচ্চা, সবাই মুগ্ধ।

Shamiur Rahman

Related