মিশি সালজং ও গারোদের ওয়াংগালা উৎসব

Published: 17 October 2025 12:10

নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় 'মিশি সালজং'কে ধন্যবাদ জানাতে উৎসবের আয়োজন করে তারা

গারো সম্প্রদায়, যারা ভারতের মেঘালয় ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে বাস করে, তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম চিরকালই সমৃদ্ধ। তাদের প্রধান দেবতা মিশি সালজং (Misi Saljong)। গারোরা বিশ্বাস করে, তিনি সৃষ্টিকর্তা ও সর্বশক্তিমান, যিনি মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং ফসলের উন্নতির জন্য আশীর্বাদ দেন।

গারোরা বিশ্বাস করে, শস্য দেবতা 'মিশি সালজং' পৃথিবীতে প্রথম ফসল দিয়েছিলেন এবং তিনি সারাবছর পরিমাণ মতো আলো-বাতাস, রোদ-বৃষ্টি দিয়ে ভালো শস্য ফলাতে সহায়তা করেন। তাই নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় 'মিশি সালজং'কে ধন্যবাদ জানাতে উৎসবের আয়োজন করে তারা।

গারোরা প্রকৃতি ও দেবতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানকে দেবতার নিবাস হিসেবে মান্য করে সেখানে গান, নৃত্য ও প্রার্থনার মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশ করে। মিশি সালজং-এর প্রতি এই ভক্তি তাদের নৈতিকতা, সামাজিক সংহতি ও জীবনমূল্যকে দৃঢ় রাখে।

ওয়ানগালা উৎসব

গারোদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা, যা "শত ড্রামস উৎসব" নামে পরিচিত, মিশি সালজং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে উদযাপিত হয়। এটি সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম দিন – রুগালা (Rugala): গ্রাম প্রধান (নোকমা) চাল, শাকসবজি ও রাইস বিয়ার (চু) উৎসর্গ করে।

দ্বিতীয় দিন – কাকাট (Kakkat): পুরো সম্প্রদায় নৃত্য, গান ও ড্রাম বাজিয়ে আনন্দ উদযাপন করে।

উৎসবের সময় শতাধিক ড্রামের (ডামা) শব্দে পরিবেশ মুখরিত হয়। পুরুষ ও মহিলারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নৃত্য ও গান পরিবেশন করে, যা গারোদের ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।

গারো সম্প্রদায়ের ধর্ম, আচার ও উৎসব মিশি সালজং-এর ভক্তির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। ওয়ানগালা উৎসব শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি গারোদের ঐতিহ্য, সামাজিক সংহতি এবং সংস্কৃতির উৎসবমুখর প্রকাশ।

Shamiur Rahman

Related