কারও অনিয়ম বা দুর্নীতির দায় নেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি
শর্তে রাজি না হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধই থাকবে : প্রতিমন্ত্রী
বুধবার (৬ মে) অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন
মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া শর্তে রাজি না হলে দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর।
বুধবার (৬ মে) অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার বাজার ২০০৮ সালে প্রথম বন্ধ হয়। এরপর ২০১৬ সালে চালু হয়ে ১৮ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২২-এ চালু হলে ২৪-এ বন্ধ হয়, যা এখনো বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিকবার বৈঠক ও সফর হয়েছিল, তবুও এই বাজার চালু হয়নি। কারণ মালয়েশিয়া ১০টি শর্ত দিয়েছিল; যে শর্ত মানলে বাংলাদেশে ৫টি থেকে ৭টি এজেন্সির বেশি কেউ কর্মী পাঠাতে পারবে না।
নূরুল হক বলেন, পরবর্তীতে ৩টি শর্ত মওকুফ করে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবুও বাস্তবতা হচ্ছে মার্কেট বন্ধই আছে। আমরা যদি সিন্ডিকেট কিংবা ফেয়ার রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম, যাই বলেন, তাদের এই ধরনের শর্তে রাজি না হই, তবে মার্কেট যেভাবে বন্ধ আছে সেভাবেই থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রী কিছুদিন আগে সেখানে সফর করে বলে এসেছেন যে, তাদের শর্তে যে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেই এজেন্সিগুলোকে যেন কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় কিংবা এর সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের দুর্নীতির দায় নেওয়া হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিএমইটির মহাপরিচালকসহ সব কর্মকর্তাকে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে আপনাদের কোনো অন্যায়ের দায় কিংবা অপবাদ আমরা নিতে চাই না। কারণ আমাদের রাজনীতি করতে হবে এবং জনগণের কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমরা যদি ব্যর্থতা দূর করতে না পারি, তাহলে এখান থেকে সরে যাব। যদি মনে করি আমি ব্যর্থ হচ্ছি, তাহলে বিনয়ের সাথে প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব যে আপনি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন কিন্তু আমি কাজ করতে পারছি না, তাই আমি আর থাকতে চাই না।’
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমাদের ১১০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, আরও ৫০টি হবে। কিন্তু সব জায়গায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হয়নি। প্রকৃত অর্থে ১১০টি কেন্দ্র থাকলেও অনেক জায়গায় প্রশিক্ষক নেই।
তিনি আরও বলেন, আবার সংসদ অধিবেশনে অনেক এমপি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। কিন্তু যাচাই করলে দেখা যাবে তাঁদের অনেক এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। তারপরও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দিতে হয়। আমরা এখন চেষ্টা করছি চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে সুসজ্জিত করতে।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রবাসীদের সমস্যা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানি। কারণ দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমি প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। আমার মনে হচ্ছে সাধারণ কিছু সমস্যা সমাধান করতে পারলে প্রবাসীরা অনেক খুশি হবেন এবং সরকারও বাহবা পাবে।’
রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের মূল্যায়নের ওপর গ্রেডিং দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতারণা ও অনিয়ম বন্ধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুযায়ী গ্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাঁদের কাজের মূল্যায়ন করে আমরা গ্রেড দেব, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোন প্রতিষ্ঠান ভালো।’
Shamiur Rahman

Please share your comment: