পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Published: 10 December 2019 01:12

‘বাড়তি টাকা’ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন চান মিয়া ঢালী এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

এফটি বাংলা

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতুর রেললাইন প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য ‘বাড়তি বিল’ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়তি বিল পাওয়ার আশায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এক গ্রামের ১০টি পরিবার। ‘ধোঁকার শিকার’ হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হলে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য।

জানা গেছে, দুই বছর আগে পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের সময় শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের হালান শেখ নামের এক ব্যক্তি তার পরিচিত কাঁঠালবাড়ী এলাকার চান মিয়া ঢালীর সহযোগিতায় অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর অন্যান্য জমির জন্য আরও টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চান মিয়া ঢালী হালান শেখের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ সময় কৌশলে একটি সাদা স্ট্যাম্পে হালান শেখের স্বাক্ষরও নিয়ে নেন তিনি।

এরপর হালান শেখের অন্যান্য অধিগ্রহণকৃত জমির টাকাও কৌশলে উঠিয়ে নিতে শুরু করেন চান মিয়া। হালান শেখের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী হালান শেখ। বিষয়টি নিয়ে চান মিয়ার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে ওই গ্রামের অন্যদের সঙ্গেও চান মিয়া ঢালীর প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, ‘বাড়তি টাকা’ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন চান মিয়া ঢালী এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

প্রথম প্রতারণার শিকার হালান শেখ তার টাকা ফেরত চাইলে চান মিয়া ঢালী হালান শেখসহ একই এলাকার নুরুল ইসলাম বেপারীর নামে মামলা করেন। এ মামলায় নূরুল ইসলাম বেপারী বর্তমানে জামিনে থাকলেও হালান শেখ জেলহাজতে রয়েছেন বলে তার পরিবার জানায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এমন অভিযোগ শুধু হালান শেখের পরিবারেরই নয়। ওই এলাকার বহু পরিবারকে ধোঁকা দিয়ে মোটা অঙ্কের বিল পাওয়ানোর কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত কোটি টাকা।

ওই এলাকার জালাল আকনের স্ত্রী হালিমন নেছা বলেন, ‘চান মিয়া আমার কাছে থকে দুই লাখ টাকা নেন আমাকে আমার জমির অতিরিক্ত বিল পাইয়ে দেবে বলে। অথচ আমি অতিরিক্ত কোনো বিলই পাইনি।’

আবদুল হক বেপারী নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘চান মিয়া একটা প্রতারক। আমার কাছ থেকে একইভাবে সাত লাখ টাকা নেন। এখন টাকা চাইলে আমাকে হত্যার হুমকি দেন।’

এখানেই শেষ নয়, এলাকার আজিজুল খান, মজিবর শেখ, আছিয়া বেগম, নাজমা বেগম, আয়না বেগম, পুরভী আকতারের পরিবারসহ অন্তত ১০টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে উল্টো তাদের নামে মামলা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে চান মিয়া ঢালীর বিরুদ্ধে।

হালান শেখের স্ত্রী শাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর সরলতার সুযোগে প্রতারক চান মিয়া ঢালী আমাদের ভূমি অধিগ্রহণের সব টাকা হাতিয়ে নেয়। সে প্রতারণা করে আমার স্বামীকে জেলে দিছে। বর্তমানে আমার তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে চান মিয়া ঢালী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক মিথ্যা কথা বলছে। সব অভিযোগ ভুয়া, বানোয়াট।’

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ রকম চক্রকেই খুঁজছি। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

Shamiur Rahman

Related