বাংলাদেশ সরাসরি আগ্রাসী শক্তির প্রতিবাদ করবে—এইটাই প্রত্যাশা: ইরানি রাষ্ট্রদূত

Published: 04 March 2026 16:03

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বুধবার (৪ মার্চ) গুলশানে অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওআইসি সদস্য ও ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এক জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলে

 

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বুধবার (৪ মার্চ) গুলশানে অবস্থিত ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওআইসি সদস্য ও ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এক জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন যে, বর্তমানে ইরানের ওপর পরিচালিত নজিরবিহীন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের উচিত সরাসরি এবং কঠোর নিন্দা জ্ঞাপন করা।

আমেরিকার নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তিনি ঢাকার সাম্প্রতিক অস্পষ্ট বিবৃতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ জন ইরানি শাহাদাত বরণ করেছেন এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশ ও জনগণের পাশে থেকে বীরত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

 

রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, ইরান কোনো স্বল্পমেয়াদী সংঘাত নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সামরিক ও মানসিক সক্ষমতা রাখে, যদিও চীনের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে পাশে দাঁড়াতে পারছে না।

 

ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি জানান যে, তাঁদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; তবে তিনি একই সাথে এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা শান্তির পথে ফিরে না আসবে, ততক্ষণ ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিক ও স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।

 

রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রণক্ষেত্রে ইরানের আপসহীন অবস্থান এবং মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ও সাহসী কূটনৈতিক সমর্থনের দাবিকেই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related