এসএএইচআরের পর্যবেক্ষণ
আইনশৃঙ্খলার অবনতি, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগ
জুলাই–পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী মব, প্রতিহিংসামূলক হামলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে
দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর) বাংলাদেশে পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশের মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে ‘আ ইয়ার অব ট্রানজিশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
এসএএইচআর জানায়, গত বছরের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও অন্যান্য গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, মব সহিংসতা, গণহারে হত্যা মামলা, জামিনে বঞ্চনা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব জনগণের নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক দীক্সা ইল্লাঙ্গাসিংহে বলেন, “জুলাই–পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী মব, প্রতিহিংসামূলক হামলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
দীক্সা আরও বলেন, হিন্দু, আহমাদিয়া, সুফি, সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী, লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘু এবং নারীদের ওপর আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তাদের সম্পদ ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ৯টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে দমনমূলক আইনের অব্যাহত প্রয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের অকার্যকর অবস্থা এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে বিভক্তি। তারা দ্রুত জনগণের আস্থা তৈরির মাধ্যমে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসএএইচআরের কো–চেয়ারম্যান রশমি গোস্বামী, সদস্য সারূপ ইজাজ এবং বাংলাদেশ ব্যুরো মেম্বার সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন এই সংগঠনের তিনজন সদস্য। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টা, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
Shamiur Rahman
