নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া
৯২ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে, তরুণদের পছন্দ জামায়াত আর আ.লীগ ভোটারদের ঝোঁক বিএনপির দিকে
আওয়ামী লীগের নিয়মিত ভোটারদের প্রায় অর্ধেক এবার ‘বিএনপি’-কে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ভোটারদের মাঝে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯১.৭ শতাংশ ভোটার আগামী নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এমন তরুণদের বড় একটি অংশের পছন্দ ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নিয়মিত ভোটারদের প্রায় অর্ধেক এবার ‘বিএনপি’-কে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন এন্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সিআরএফ-এর স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ।
তরুণ ও নতুন ভোটারদের পছন্দ
জরিপ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন, তাদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৩৭.৪ শতাংশ তরুণ ভোটার জামায়াতকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর বিপরীতে ২৭ শতাংশ তরুণের পছন্দ বিএনপি এবং ১৭ শতাংশ ভোটার এনসিপি-কে পছন্দ করছেন। বাকি ১৮.৬ শতাংশ ভোটার অন্যান্য দল বা এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের অবস্থান
বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও জরিপ করা হয়। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের নিয়মিত ভোটারদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৬.৫ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভোটের মানদণ্ড: দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্য
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান’কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। এছাড়া ৬৩.৪ শতাংশ ভোটার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাকে এবং ৫৫.৪ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে ভোট দেবেন। ধর্মীয় বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার। ৩০.৪ শতাংশ ভোটার দলীয় প্রতীক বা মার্কা দেখে এবং ৩০.২ শতাংশ প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন বলে মত দিয়েছেন।
জরিপ পদ্ধতি
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং-এর অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, “ভোটাররা এখন পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে সুশাসন, দুর্নীতি মুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের প্রবল তৃষ্ণা এই জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে।”
সিআরএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, দেশের সাধারণ মানুষ এবার একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে, যারা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
Shamiur Rahman
