জাতীয় পতাকা সজ্জিত গাড়িতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার মরদেহ
দুপুর পৌনে ১২টার কিছু পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী পতাকায় মোড়ানো গাড়িবহর
রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেয়া হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ।
বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার কিছু পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী পতাকায় মোড়ানো গাড়িবহর।
এর আগে, বেলা ১১টা ০৪ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর তারেক রহমানের গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে রওনা হয়।
গাড়িবহরে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসও রয়েছে। তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা জানাজাস্থলে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার স্বজনরাও এই গাড়িবহরে রয়েছেন।
এর আগে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার পর শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে নেওয়া হয়। তার মরদেহ দীর্ঘদিনের বাসভবন ফিরোজায় নেওয়ার কথা ছিল। পরে গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে খালেদা জিয়ার স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বুধবার বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
এদিকে জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীর ভিড় বাড়তে থাকে। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার আশায় তারা গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে রাজধানীতে আসছেন।
জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বুধবার জানাজার সময় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বদলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন রাখা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। এসময় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি মনোনীত রাজনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
খালেদা জিয়ার দাফন নির্বিঘ্নে শেষ করার জন্য জিয়া উদ্যানে নির্ধারিত ব্যক্তিদের ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।
তার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
Shamiur Rahman
