সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ইরানের, অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

Published: 02 March 2026 15:03

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ অ্যাকরোটিরিতে একটি মানববিহীন ইরানি শাহেদ ড্রোন আঘাত হানার পর, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ অ্যাকরোটিরিতে একটি মানববিহীন ইরানি শাহেদ ড্রোন আঘাত হানার পর, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

সোমবার সকালে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিদেস নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় অবকাঠামোগত সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানের অংশ নয়—এমন অবস্থানও তিনি পরিষ্কার করেছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বাধীন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রতিশোধমূলক ড্রোন হামলাটি পরিচালিত হয়, যার ফলে ঘাঁটি প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ জারি করেছে।

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ইরানের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে; আর এ কারণেই তিনি কেবল ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছেন।

 

যদিও ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি লিবিয়া সংকটের পর এই প্রথম ঘাঁটিটি এমন আক্রমণের শিকার হলো, তবুও স্টারমার পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে ব্রিটিশ বাহিনী সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং গত তিন দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জোরালো অভিযানের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন পূর্ব ভূমধ্যসাগরের এই শান্ত দ্বীপটির নিরাপত্তা বলয়কেও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related