বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

"ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক: বাংলাদেশের দরিদ্রদের জন্য ঝুঁকি"

Published: 11 January 2026 09:01

এই ধরনের রূপান্তরের ফলে ঋণের আকার বাড়ে, মাঠপর্যায়ের সামাজিক কার্যক্রম সংকুচিত হয় এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে

সরকারের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক উদ্যোগ, যা ‘সামাজিক উদ্ভাবন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরীক্ষিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন অভিমত প্রকাশ করেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস ও ইক্যুইটিবিডি।

যৌথভাবে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, তাদের এই অবস্থান তৃণমূল বাস্তবতার প্রতিফলন। বিডিসিএসও প্রসেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের ৫৪৫টি স্থানীয় পর্যায়ের এনজিও, আর ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭০টি অংশীদার সংগঠন, যা দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিনিধিত্ব করে।

উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকে রূপান্তরের ফলে প্রায়ই দেখা দেয় ‘মিশন ড্রিফট’। বিশ্বব্যাংক ও সিজিএপির গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধরনের রূপান্তরের ফলে ঋণের আকার বাড়ে, মাঠপর্যায়ের সামাজিক কার্যক্রম সংকুচিত হয় এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত ব্যাংককে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ব্যাংকিং আইন মূলত লাভ ও মূলধন সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। দরিদ্র সদস্যদের হাতে ৬০ শতাংশ শেয়ার থাকার দাবি বাস্তবে প্রতীকী বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে পেশাদার বোর্ড ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)–এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত ও স্থিতিশীল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পরামর্শ ছাড়া এই খাতকে ব্যাংক কাঠামোয় রূপান্তর করা হলে স্থায়ী সামাজিক ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Shamiur Rahman

Related