নেপথ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

মধুর" মজায় চেয়ার ছাড়তে নারাজ প্রকৌশলী আরিফ

Published: 25 April 2026 01:04

আরিফকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন তারই উর্ধতন কর্মকর্তা অর্থাৎ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাকে বদলি করা হলেও তিনি ছাড়ছেন না ক্ষমতার চেয়ার। এতে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। উপরন্তু আরও কিছু প্রজেক্টের কাজে আরিফের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আরিফ হোসেন বদলি হলেও তার স্থলে সদ্য যোগদানকৃত প্রকৌশলী মোঃ সানোয়ার হোসেনকে বিভিন্ন অজুহাতে দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুই সপ্তাহ পূর্বে বদলি আদেশ হলেও অদ্যাবধি প্রকৌশলীর চেয়ার না ছাড়ায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই ব্যাপারে আরিফকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন তারই উর্ধতন কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামরুজ্জামান।

এদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে। তিনিও কিছুদিন আগে নিজের বদলির আদেশ ঠেকিয়ে টাঙ্গাইলেই কর্মরত রয়েছেন।

জানা যায়, চলতি মাসের ৮ তারিখ একটি সরকারি আদেশে কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেনকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এবং ভূাঞাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সানোয়ার হোসেনকে কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী পদে বদলী করা হয়।

বিধি মোতাবেক মোঃ সানোয়ার হোসেন কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে ১২ তারিখ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট যোগদান করেন। একইভাবে ১৩ তারিখ আরিফ হোসেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন। এরপর থেকে নানা টালবাহানায় তিনি নতুন প্রকৌশলী মোঃ সানোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না। এতে করে অফিস সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া অভিযোগে জানা গেছে, ইতোপূর্বে আরিফ হোসেন একাধিক প্রকল্পে নানাভাবে দুর্নীতি করার কারনে স্থানীয়দের মাঝে বির্তকিত হয়েছেন। চলতি অর্থবছরে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের আওতাধীন পারখী সড়কের ৪০০০ মিটার সার্পোটিং ব্রীজ প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৩০ মিটার ব্রীজ নির্মাণ করেই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তরফদার এন্টারপ্রাইজকে ৬২ লক্ষ টাকা অগ্রীম বিল প্রদান করেছেন।

এছাড়া সুরুজ ধলাপাড়া সড়কের কার্পেটিং করার পরপরই দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। এরপরও ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দাস এন্টারপ্রাইজকে দুই কোটি টাকা বিল প্রদান করেছেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চেয়ার ছাড়ার পূর্বে আরো তিনটি প্রকল্পের বড় বিল প্রদানের মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহনের পাঁয়তারা করছেন তিনি। তবে আরিফ হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন বিল অগ্রীম দেয়া হয়নি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে আরিফ দাম্ভিকতা দেখান।

এদিকে, দায়িত্ব বুঝে পেতে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী (সদ্য যোগদানকৃত) মোঃ সানোয়ার হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি বদলি আদেশ হওয়ার পরপরই নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছি। কিন্তু বদলিকৃত প্রকৌশলী আরিফ হোসেন দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় আমার কাজ করতে যেমন বিঘ্ন হচ্ছে ঠিক তেমনি উপজেলার উন্নয়ন কাজও ব্যহত হচ্ছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (যোগদানকৃত) আরিফ হোসেন বলেন, চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশের পদোন্নতি হওয়ায় তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। তিনি সরে গেলেই আমি কালিহাতীর দায়িত্ব নতুন প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেনকে বুঝিয়ে দিব। এসময় তিনি ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এই বিষয়ে ফোনে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কালিহাতী উপজেলা প্রকৌশলী পদে যোগদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে এই জটিলতা দূর হয়ে যাবে। তবে, এই কথোপকথনের এক পর্যায়ে সব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বাইরে যাওয়ার কথা বলে দ্রুত ফোন কেটে দেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগের সূত্র ধরে এই প্রতিবেদক নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে উক্ত দুই কর্মকর্তার অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক পর্যালোচনায় এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় দ্য ফিন্যান্স টুডের আগামী পর্বে জনস্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

Shamiur Rahman

Please share your comment:

Related