এনবিআর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে কর্মকর্তাদের অবস্থান

Published: 29 April 2025 20:04

রাজস্ব নীতি পৃথককরণ অধ্যাদেশ ইস্যুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের শতাধিক কর্মকর্তারা

রাজস্ব নীতি পৃথককরণ অধ্যাদেশ ইস্যুতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের শতাধিক কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে তারা অবস্থান নেন।

উল্লেখ্য, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে অসন্তোষ শুরু হয় আগেই। ট্যাক্স ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যেভাবে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তাতে রাজস্ব নীতির নিয়ন্ত্রণ কার্যত প্রশাসন ক্যাডারদের হাতেই চলে যাচ্ছে।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করার লক্ষ্য ছিল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকীকরণ, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন পরিচালনার মাধ্যমে একে আরও টেকসই করা।

প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর এই অধ্যাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করবে-রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। তবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, খসড়াটি মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যেতে পারে। ফলে দুর্বল হয়ে যেতে পারে সংস্কার প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন: রাজস্ব নীতিতে অভিজ্ঞতার অবমূল্যায়ন

রাজস্ব সংস্কার কমিটি পৃথকীকরণের বিষয়ে যে সুপারিশ করেছে, তা খসড়ায় ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা ও কমিটি সদস্য।

কর ও কাস্টমস ক্যাডারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, অর্থনীতি ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাদারদের নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল সংস্কার কমিটি।

কিন্তু খসড়ায় এই সুপারিশকে উপেক্ষা করায় নীতি ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা প্রশাসন ক্যাডারদের হাতেই থেকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারা।

সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর চূড়ান্ত খসড়া নিয়েও আলোচনা করা হয়। এসময় কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রেস বিবৃতিতে ও সভায় বক্তারা জানান, কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নে অতিমূল্যায়িত জিডিপি, রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষপদে বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং রাজস্ব আহরণে সর্বনিম্ন বিনিয়োগ বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা সরকারের কাছে রাজস্ব আহরণে অধিক বিনিয়োগ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনোযোগ দেয়ার দাবি জানান।

এসব বিষয়ে বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, রাজস্ব সংস্কার শুধু নীতি ও বাস্তবায়ন পৃথক করলেই যথেষ্ট নয় বরং রাজস্ব প্রশাসনের সামগ্রিক শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অপরিহার্য।

সভায় বক্তরা জানান, সরকার গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট রাজস্ব সংস্কার পরামর্শক কমিটির আহ্বানে বিসিএস কাস্টমস ও ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে মতামত পেশ করেছে।

তবে সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত অধ্যাদেশের খসড়া পর্যালোচনা করে অ্যাসোসিয়েশন দুটি লক্ষ্য করেছে যে, তাদের প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

সভায় বিসিএস কাস্টমস ও ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশন নিম্নলিখিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রাজস্ব নীতি বিভাগের শীর্ষপদে কর-রাজস্ব আহরণে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রস্তাব থাকলেও খসড়ায় ‘যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা’ নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

রাজস্ব নীতি বিভাগের মৌলিক পদে বিশেষায়িত ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্টভাবে নিয়োগের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। কর আইন প্রয়োগ ও আহরণ পরিস্থিতি পরিবীক্ষণের ক্ষমতা নীতি বিভাগকে দেয়ার প্রস্তাবকে সাংঘর্ষিক হিসেবে অভিহিত করা হয়।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সচিব নিয়োগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর-রাজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার না দেয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রশাসনিক পদসমূহে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

Shamiur Rahman

Related