‘কে এই সাজিদ?’ পুলিশের নির্মম পিটুনিতেও অটল; শেষে ঘৃণায় সরিয়ে দিলেন পুলিশকেই!
চারপাশে টিয়ারশেলের ধোঁয়া, সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ আর পুলিশের লাঠিপেটা—শাহবাগের রণক্ষেত্রে যখন সবাই দিগ্বিদিক ছুটছে, তখন এক যুবক দাঁড়িয়ে ছিলেন পাহাড়ের মতো।
‘কে এই সাজিদ?’ পুলিশের নির্মম পিটুনিতেও অটল; শেষে ঘৃণায় সরিয়ে দিলেন পুলিশকেই!
আবদুর রহিম, স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শনিবার
চারপাশে টিয়ারশেলের ধোঁয়া, সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ আর পুলিশের লাঠিপেটা—শাহবাগের রণক্ষেত্রে যখন সবাই দিগ্বিদিক ছুটছে, তখন এক যুবক দাঁড়িয়ে ছিলেন পাহাড়ের মতো। পুলিশের এলোপাতাড়ি লাঠির বাড়ি বৃষ্টির মতো পড়ছিল তার শরীরে, কিন্তু তিনি নড়েননি। পিছু হটেননি এক পা-ও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—‘কে এই সাজিদ?’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের মিছিলে পুলিশের অ্যাকশনের সময়কার একটি ভিডিও ক্লিপ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, পুলিশের জনা কয়েক সদস্য সাজিদ নামের ওই যুবককে ঘিরে ধরে বেধড়ক পেটাচ্ছে। অথচ তার চোখেমুখে ছিল না কোনো ভয়, ছিল এক ইস্পাত-কঠিন দৃঢ়তা।
সেই ভাইরাল মুহূর্ত: ‘আমাকে স্পর্শ করবেন না’
ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত অংশটি ঘটে মারধরের ঠিক পরপরই। দেখা যায়, টানা পিটুনির পর একজন পুলিশ সদস্য হয়তো অনুশোচনা বা ‘কৌশলগত সহানুভূতি’ দেখাতে সাজিদকে জড়িয়ে ধরতে বা থামাতে চান। কিন্তু তখনই ঘটে অভূতপূর্ব ঘটনাটি। রক্তাক্ত ও আহত সাজিদ ঘৃণাভরে ওই পুলিশ সদস্যের হাত শরীর থেকে সরিয়ে দেন। তার সেই ভঙ্গিমায় যেন স্পষ্ট লেখা ছিল—‘যে হাতে আঘাত করেছ, সেই হাতে মায়া দেখিও না।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজিদ নামের ওই তরুণ ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী। শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে তিনি রাজপথে নেমেছিলেন। পুলিশের আক্রমণের মুখে তার এমন অটল অবস্থান দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান।
নেটিজেনদের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজিদের এই ভিডিও শেয়ার করে হাজার হাজার মানুষ আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। একজন লিখেছেন, “এ কেমন নির্মমতা! যে ছেলেটা পুলিশের ওপর্যুপরি আঘাতের মুখেও অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তার ঈমানি শক্তি কত প্রবল! শেষে পুলিশ তাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে তিনি যেভাবে হাত সরিয়ে দিলেন, তা আমাদের আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।”
আরেকজন লিখেছেন, “সাজিদের এই নীরব প্রতিবাদ হাজারো স্লোগানের চেয়ে শক্তিশালী। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাজিদের মতো দ্বীনের পথে ও ন্যায়ের পক্ষে অটল-অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন।
সাজিদ এখন সাহসের প্রতীক
শাহবাগের ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন, অনেকেই দৌড়ে পালিয়েছেন। কিন্তু সাজিদ প্রমাণ করেছেন, বিশ্বাস আর সাহস থাকলে লাঠির আঘাতেও টলানো যায় না। তার এই ‘হাত সরিয়ে দেওয়া’র দৃশ্যটি এখন অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সহযোদ্ধারা বলছেন, সাজিদ শারীরিকভাবে আহত হলেও মানসিকভাবে তিনি জয়ী। তার এই সাহসিকতা পুরো আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাজিদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে তার মনোবল এখনো অটুট।
উপসংহার
একজন সাধারণ তরুণ থেকে সাজিদ এখন সাহসের মূর্ত প্রতীক। তার চোখের ভাষা আর শরীরের দৃঢ়তা বলে দিচ্ছে—এই জনপদ হার মানতে জানে না। পুলিশের লাঠি হয়তো হাড় ভাঙতে পারে, কিন্তু সাজিদের মতো তরুণদের মেরুদণ্ড ভাঙতে পারে না।
Shamiur Rahman
