জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Published: 19 February 2026 05:02

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি করেন একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান ২০০২-০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সম্মানী, গৃহভাড়া, লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তিনি মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন।

তবে আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ব্যবসা ও মৎস্য খাতের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আয়ের পক্ষে অনুসন্ধানকালে গ্রহণযোগ্য কোনও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার দাবি করা হলেও এর বৈধ উৎস বা প্রমাণ মেলেনি। অনুসন্ধানে তার নামে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। অর্থাৎ অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।

এই কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় সংশ্লিষ্ট সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা। এতে তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা।

অন্যদিকে, অনুসন্ধানে তার নামে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ব্যবসা ও মৎস্য খাতের আয় এবং স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের কাছ থেকে নেওয়া ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণের যথাযথ প্রমাণাদি দিতে ব্যর্থ হন।

মাহফুজুর রহমান মিতা ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে সন্দ্বীপ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া, তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, বীমা খাতের একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনায় দেশের শিল্প মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

Shamiur Rahman

Related