কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এসেট প্রকল্পে জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম ও মানহানির অভিযোগ
দিনাজপুর নারী চেম্বারের সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি লীগনেত্রী শাহিনুরের জামিন মঞ্জুর
আইন অনুযায়ী ৬ এপ্রিল বিকাল ৪টায় তাকে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মুচলেকা নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন ম
ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত একটি তদন্তকে কেন্দ্র করে দায়ের করা জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় আটক বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং দিনাজপুর ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে জামিন দিয়েছে আদালত।
এর আগে, জান্নাতুল সাফা শাহীনুর দিনাজপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে ৫ এপ্রিল সকালে শাহজাদপুরের বাসায় না গিয়ে সরাসরি এসেট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতের কক্ষে আত্মগোপন করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদের কক্ষের বাইরে থেকে আটক করা হয়।
ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করে গুলশান থানায় নেয়া হয়। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, এসেট প্রকল্পের কতিপয় প্রকৌশলীর প্ররোচনায় তিনি এসেট প্রকল্পের সাবেক উপপ্রকল্প পরিচালক জনাব খন্দকার খালেদ রিয়াজ ও দিনাজপুরের একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধানের নামে দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী ৬ এপ্রিল বিকাল ৪টায় তাকে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত মুচলেকা নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর নারী চেম্বারের সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি লীগনেত্রী শাহিনুর ঢাকায় আটক
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭১ ও ৫০০ ধারার আওতায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ধারায় যথাক্রমে জালিয়াতি, সরকারি নথি জালকরণ, জাল নথি ব্যবহার এবং মানহানির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এসেট প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক ও মামলার অভিযোগকারী খন্দকার খালেদ রিয়াজ অভিযোগ করেন যে মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন এবং একাধিক আর্থিক অনিয়ম করায় তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেন। তার দাবি অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি অভিযুক্তের ডুপ্লিকেট এনআইডি সনাক্ত করেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন যে মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রজেক্টের সাথে জালিয়াতি করে চুক্তি করা, ব্যাংক একাউন্ট চালু ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় হতে ওমেন চেম্বারের লাইসেন্স গ্রহন করায় সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ একগুচ্ছ সুপারিশমালা যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশসমুহ অনুমোদন করার পর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী এসেট প্রকল্পের সাথে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের সম্পাদিত সকল চুক্তি বাতিল এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে জালিয়াতি করে লাইসেন্স গ্রহণ করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী এসেট প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান শাহিনুরের সাথে সম্পাদিত চুক্তিটি বাতিল করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শাহিনুর অভিযোগকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপদেষ্টার নিকট একটি মিথ্যা মানহানিকর অভিযোগ দাখিল করেন যা পরবর্তীতে তিনি অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গ্রুপে প্রচার করেন। এছাড়া, শাহীনুর একটি তদন্তপত্র গোপনে প্রকল্পের অথবা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা হতে অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং গ্রুপে প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহীনুর দিনাজপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বাদী খন্দকার খালেদ রিয়াজ ও আরো ২৬ জনের নামে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য দ্য ফিন্যান্স টুডের পক্ষ থেকে এসেট প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Shamiur Rahman

Please share your comment: