যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চল, না হলে একাই লড়: ইউরোপকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: 15 February 2026 15:02

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি অত্যন্ত সুকৌশলী ও কঠোর আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি অত্যন্ত সুকৌশলী ও কঠোর আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন, যেখানে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র প্রেক্ষাপটে পারিবারিক বন্ধনের দোহাই দিয়ে মূলত চরম এক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে। রুবিও তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব কেবল তখনই টিকে থাকা সম্ভব, যদি ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের বর্তমান লিবারেল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জলবায়ু নীতি পরিহার করে রক্ষণশীল খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ এবং কঠোর সীমান্ত সুরক্ষা নীতি গ্রহণ করে। অনেকটা ‘দম্পতিদের থেরাপি’র মতো ভঙ্গিতে তিনি এই বার্তাই দিয়েছেন যে, ইউরোপকে হয় নিজেদের আমূল পরিবর্তন করতে হবে, না হয় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে—যা উপস্থিত মধ্যপন্থী ইউরোপীয় নেতাদের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সওয়াল করছেন, তখন রুবিও তাঁদের যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’ বা জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যা মূলত ইউরোপের উগ্র-ডানপন্থী শক্তিগুলোকেই পরোক্ষ উৎসাহ জোগানোর নামান্তর। অন্যদিকে, সম্মেলনের মূল মঞ্চে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ইউরোপকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যেকার কথিত ‘গোপন চুক্তির’ গুঞ্জন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেও, রুবিওর অবস্থানে ইউক্রেন ইস্যুটি এক কুয়াশাচ্ছন্ন অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে এই সম্মেলনটি আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান গভীর ফাটলকেই নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল সামরিক সহযোগিতাই নয়, বরং ইউরোপের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন দেখতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের মতো দেশগুলো এক গভীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, কারণ তারা আশঙ্কা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এই পারস্পরিক তিক্ততা এবং মান-অভিমানের দোলাচলে শেষ পর্যন্ত তাদের সার্বভৌমত্বই বলি হতে পারে, বিশেষ করে যখন আগামী বছরের মধ্যে ব্রিটেন বা ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

Shamiur Rahman

Related